Headlines
Loading...
দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-১৭) : পরিশ্রমের সুযোগ না থাকলে ব্যায়াম করুন

দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-১৭) : পরিশ্রমের সুযোগ না থাকলে ব্যায়াম করুন

ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে


দীর্ঘজীবন লাভের উপায়                                                



অধ্যায়-১৬

পরিশ্রমের সুযোগ না থাকলে আছে ব্যায়াম

পেশাগত কারণে শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ যাদের করতেই হয় না, তারা ব্যায়ামকে বেছে নিতে পারেন শারীরিক পরিশ্রমের সর্বোত্তম বিকল্প হিসেবে। ব্যায়ামে এমনভাবে অভ্যস্ত হতে হবে, শরীরে যাতে চর্বি-কোলেস্টেরল বাড়তে না পারে কোনোভাবে। যাদের শরীরে ইতোমধ্যে চর্বি-কোলেস্টেরল বেড়ে গেছে, কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে এখনও আক্রান্ত হননি, তারা দ্রুত ব্যায়ামের অভ্যেস গড়ে তুলুন, নয়তো যে কোনো সময় আপনার শরীরে দেখা দেবে এসব কোনো রোগ। ব্যায়াম করতে থাকুন নিয়মিত, শরীরের ওজন কমুক আর না কমুক, চর্বি-কোলেস্টেরল থাকবে নিয়ন্ত্রিত, শরীর নিরাপদ থাকবে এসব রোগ থেকে।

আর হ্যাঁ, আক্ষরিক অর্থে ব্যায়াম দ্বারা শুধু শারীরিক কসরত বুঝায়, কিন্তু ব্যাপকার্থে ব্যায়াম দ্বারা শারীরিক কসরত, হাঁটাহাঁটি, দৌড়াদৌড়ি (জগিং), সাইক্লিং, সাঁতার এবং শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন খেলাধুলা (যেমন: ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন) সবকিছুকেই বুঝায়। সুতরাং ব্যায়াম হিসেবে এসবের কোনো এক বা একাধিক ইভেন্টকে নিত্যসঙ্গী করে নিন, আপনার শরীরে উল্লেখিত রোগগুলোর কোনোটিই কখনো আক্রমণ করতে পারবে না।

পৃথিবীর অনেক সচেতন মানুষ নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকে। ব্যায়াম করেন বলেই তাদের শারীরিক ফিটনেস ঠিক থাকে, তারা থাকে রোগমুক্ত। ব্যায়াম হিসেবে মর্নিং ওয়াক বা জগিংই অনেকের প্রিয়। অস্ট্রেলিয়ার অনেক স্বাস্থ্য-সচেতন মানুষ ব্যায়াম হিসেবে সকালবেলায় নিয়মিত দৌড়ায় বা হাঁটাহাঁটি করে। ‘অন্যপ্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত বিরূপাক্ষ পাল রচিত ‘সিডনির পথে পথে’ বইয়ে লেখক লিখেছেন, ‘...একদিন প্রভাতে সপরিবারে কেন্দ্রীয় সিডনির দিকে ট্রেনযোগে যাত্রা করলাম। মানুষ তখন কাজে ছুটছে। সচেতন গৃহবধূরা জগিং করছে। বালিকারা গেঞ্জি পরে রাস্তায় দৌড়াচ্ছে। বৃদ্ধেরা প্রাতঃভ্রমণ করছে।’ [পৃ-১৮] ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের ‘উইংস অব ফায়ার’ বইটি পড়ে জানতে পারলাম, তিনি নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণ করতেন। মজার একটি ব্যাপার হচ্ছে, তিনি প্রাতঃভ্রমণ করতেন তাঁর বাসগৃহের চারপাশে হেঁটে হেঁটে। হয়তো এজন্যে যে, বাড়ির বাইরে একা একা হাঁটতে বের হওয়াটা তাঁর কাছে ভালো লাগতো না।

প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যারা কাজ করেন, তাদের দৈনন্দিন রুটিনে ব্যায়াম বা জগিং একটি অপরিহার্য বিষয়। জগিংসহ বিভিন্ন রকম ব্যায়াম তাঁরা প্রতিদিন করে থাকেন। জীবনের জন্য ব্যায়াম প্রয়োজনীয় না হলে এভাবে অপরিহার্য হিসেবে তাদেরকে ব্যায়াম করতে হতো না। ব্যায়ামের জন্য জিমে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও এখন বাড়ছে। সমস্যা হচ্ছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করছে, তাদের সংখ্যা কম। অধিকাংশ মানুষই ব্যায়াম-বিমুখ। অনেকে ব্যায়ামের গুরুত্ব বোঝে না, অনেকে গুরুত্ব বুঝলেও সময়ের অভাবে ব্যায়ামকে সময় দিতে পারে না। শারীরিক পরিশ্রমের পেশায় যারা নিয়োজিত নেই, তারা ব্যায়ামে অভ্যস্ত না হলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাকের মতো রোগগুলো তাদের জীবনকে কঠিন ও সংক্ষিপ্ত করে ছাড়বেই।

২৪ জুলাই ২০১৮ তারিখের প্রথম আলোয় ‘নিয়মিত ব্যায়ামে উপকার অনেক’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়। লেখক: ডা. রাফিয়া আলম। লেখাটিতে ব্যায়ামের কয়েকটি উপকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লেখাটিতে বলা হয়, ‘ব্যায়ামের উপকারিতা জানা আছে সবারই কমবেশি। তবে নিয়ম করে ব্যায়াম করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। ক’দিন ব্যায়াম করলেন, আবার ক’দিন বাদ দিলেন, এভাবে অনিয়ম হলে চলবে না।

হঠাৎ ব্যায়াম ছেড়ে দেওয়াও ঠিক নয়। কিছুদিন খুব কঠোর পরিশ্রমের ব্যায়াম করে আবার কিছুদিনের জন্য ব্যায়াম একেবারেই বাদ দিয়ে দিলেন, এমনটা করবেন না। এর চেয়ে বরং সহজ ব্যায়াম করুন। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখুন।
যাঁরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যায়াম করেন বা হাঁটাহাঁটি করেন, তাঁরা যদি হুট করে ব্যায়াম ছেড়ে দেন, তাহলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
শরীর ফিট রাখতে যাঁরা ব্যায়াম করেন, তাঁরা ব্যায়াম ছেড়ে দিলে ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে তো বিঘ্ন ঘটবেই। যাঁরা ওজন কমানোর জন্য ব্যায়াম করেন তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যায়াম ছেড়ে দিলে হুট করে ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে; কারণ ব্যায়ামের মাধ্যমে যেমন নিয়মিত হারে ক্যালরি পোড়ানো হচ্ছিল, সেটি আর সম্ভব হয় না।
সুস্থ হৃৎপিন্ডের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম চাই। নিয়মিত ব্যায়ামে রক্তচাপ থাকে নিয়ন্ত্রণে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়ামের জন্য সময় বের করা এমনিতেও কঠিন; তা ব্যস্ততার জন্যই হোক আর আলসেমির কারণেই হোক। কাজেই একবার ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে সেটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করাই শ্রেয়। অভ্যাস ছুটে গেলে নতুন করে অভ্যাস তৈরি করা কঠিন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করুন। ভারী ব্যায়াম করতে পারলে অবশ্য সপ্তাহে ৭৫ মিনিটই যথেষ্ট।’


‘সুস্থতার জন্য চাই নিয়ন্ত্রিত জীবন’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয় দৈনিক ইত্তেফাকে ১৬ জানুয়ারী, ২০১৮ তারিখে, যা লিখেছেন ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্চিতা বর্মন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘যতবেশি কর্মক্ষম থাকা যায় আয়ু তত বৃদ্ধি পায়। তার জন্য শুরু থেকে প্রতিদিন ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের পেশি গঠন ও হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া শরীরের রক্তনালীতে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে। পাশাপাশি বয়স ও উচ্চতা ভেদে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এভাবে প্রতিদিন একটি নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলে সুস্থ শরীর ও দীর্ঘ আয়ু জীবন লাভ করা সম্ভব।’

‘নিয়মিত ব্যায়ামে সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয় ২৮ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে দৈনিক যুগান্তরে, লিখেছেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বক্ষব্যাধি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রফিক আহমেদ। তিনি লিখেন, আমরা সবাই দীর্ঘ জীবন প্রত্যাশা করি। আমাদের সবার উচিত, শারীরিক, কায়িক পরিশ্রম করা। ব্যায়ামের জন্য কিছু নির্দিষ্ট সময় বের করে নেয়া। সকালের ব্যায়াম শরীরের জন্য বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি উপকারী। সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা, শরীরের ঘাম ঝরানো-মনকে সতেজ করে, বিষন্নতা দূর করে, ঘুম ভালো হয়, কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।’

চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনালে (বাংলা সংস্করণ) ৭ জুন ২০১৫ তারিখে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠান ফিচার আকারে প্রকাশিত হয় রেডিওটির ওয়েবসাইটে ‘বিশেষজ্ঞের সাতটি পরামর্শ শুনুন, বেশিদিন বাঁচুন’ শিরোনামে। সেখানে দীর্ঘ জীবন লাভের সাতটি উপায় উল্লেখ করা হয়। তন্মধ্যে একটি হলো:

‘নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের চীনে আরও একটি কথা প্রচলিত আছে, আর তা হলো, 'দীর্ঘজীবন চাইলে বেশি বেশি পায়চারি করুন'। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশেও নিশ্চয় এ ধরণের কথা প্রচলিত আছে। আসলে এখানে পায়চারি বা হাঁটা বলতে শরীরচর্চাকে বোঝানো হয়েছে। নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের শরীর সুন্দর ও সুঠাম রাখে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চা হিসেবে পায়চারি করা, আস্তে দৌড়ানো, থাইজি মুষ্টিযুদ্ধ, শরীরগঠনমূলক ব্যায়াম ও ইউগা ইত্যাদি ভালো।’ [http://bengali.cri.cn/941/2015/06/07/41s155767.html]


১৮তম পর্ব পর্ব পড়তে হলে এখানে ক্লিক করুন

Occupation: Teaching, Hobbies: Writing

0 Comments: