দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-৩০) : হার্টের জন্য উপকারী আলাদা কোনো খাবার নেই
ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে
দীর্ঘজীবন লাভের উপায়
অধ্যায়-৩০
হার্টের জন্য উপকারী আলাদা কোনো খাবার নেই
হার্টের জন্য অনেক উপকারি খাবারের কথা মাঝে মাঝে অনেকের মুখে শুনি। অনেকে অনেক মাছের নাম উল্লেখ করে বলে, মাছটি খেলে নাকি হার্টের উপকার হয়, বিভিন্ন ফল বা সবজির সাথেও হার্টের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে অনেককে কথা বলতে শুনি। জিজ্ঞেস করি, কে বলেছে? কেউ বলে পত্রিকায় দেখেছে, কেউ বলে ফেসবুকে দেখেছে, কেউ বলে মানুষের মুখে শুনেছে।
এসব কথায় কান দেয়ার আগে দেখা উচিত, হার্টের ক্ষতি হয় কিসে? শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমলে এবং কোলেস্টেরলের আধিক্য দেখা দিলেই কেবল হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ব্লকেজে মানুষ আক্রান্ত হয়। আর শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ মুটিয়ে যাওয়া, পরিশ্রমশূন্য থাকা, বেশি বেশি খাওয়া ইত্যাদি। যেসব লোকের মধ্যে এ বৈশিষ্টগুলো পাওয়া যায় তারা হার্টের জন্য উপকারী (?) এসব খাবার যদি বেশি বেশি খায়, তাহলে কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবে না?!
পক্ষান্তরে যারা হার্টের জন্য উপকারী (?) এ খাবারগুলোর দিকে মোটেই ভ্রুক্ষেপ না করে বেশি বেশি শারীরিক শ্রমের কাজ বা ব্যায়াম করার পাশাপাশি কম কম খেতে অভ্যস্ত হয়, সবসময় শরীর শুকনো রাখতে তৎপর থাকে, তারা কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবে?
প্রকৃতপক্ষে হার্টের জন্য কোনো খাবারকেই আলাদা করে উপকারী বলা ভুল। বিশ্বের নানান দেশের মানুষ নানান রকম খাবার খায়। একেক দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস একেক রকম। সব খাবারই হার্টের জন্য উপকারী, তবে তখন, যখন মানুষ শরীরে মেদ-চর্বি জমতে দেয় না; আবার সব খাবারই হার্টের ক্ষতি করবে, যদি মানুষ শরীরে মেদ-চর্বি জমায় আর কায়িক শ্রমহীন থাকে।
কথাটির ব্যাপারে যদি এখনো কেউ দ্বিধায় থাকেন, তিনি দয়া করে তার পরিচিত দশজন হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীর খোঁজখবর নিন। দেখতে পাবেন তাদের সবার রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি। তারা যদি হৃদরোগের ভয়াবহতা থেকে বাঁচার জন্য কোলেস্টেরল কমানো বা অন্য কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে হার্টের জন্য তথাকথিত উপকারী খাবারগুলো বেশি বেশি খেতে থাকে, তাদের কি কোনো উপকার হবে?!
কোনো নির্দিষ্ট খাবার নয়, বরং হার্ট সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন শুধুই শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম। একজন মানুষ যত বেশি শারীরিক পরিশ্রম করবে, তার হার্ট তত ভালো থাকবে। আমার পরিচিত অনেক মানুষ আছেন, যাদের পেশাই হলো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ। এদের অনেকে ৫০ বছরের বেশি বয়স হয়ে যাবার পরও হৃদরোগ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। অথচ আমার চোখের সামনে অসংখ্য মানুষ ৩৫-৪০ বছর বয়সে রীতিমত হৃদরোগে আক্রান্ত। অনেকে মারাও গেছেন, কেউ কেউ জীবিত আছেন কষ্টকর এক জীবন নিয়ে।
তাই বলে এদের মতো সবাইকে শারীরিক পরিশ্রমের পেশায় নেমে যেতে হবে, এমন নয়। ব্যায়াম তো আছে। ‘সুস্থ হার্টের জন্য ব্যায়াম’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ অনলাইনে ৩১ আগস্ট ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বলা হয়, ‘সুস্থ দেহে সুস্থ হার্ট। আর সুস্থ দেহের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। হাঁটা, জগিং, যোগ ব্যায়াম - যে কোনোটি করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম একদিকে যেমন হার্টকে শক্তিশালী করে, তেমনি রক্ত সঞ্চালনও স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।’ [https://www.kalerkantho.com/online/prescription/2018/08/31/674750]
৩১তম পর্ব: https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_79.html

0 Comments: