দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-৩৫) : ধূমপান এবং তামাক সেবনের সাথে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিসের সম্পর্ক
ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে
দীর্ঘজীবন লাভের উপায়
ধূমপান এবং তামাক সেবনের সাথে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিসের সম্পর্ক
প্রথমে ধূমপান ও তামাক সেবনের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার বিষয়ে আসি। এ লেখার একেবারে প্রথমে আমার যে ভগ্নিপতি ও তার ভাইয়ের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস নিয়ে কথা বলা হলো, তাঁদের দু’জনের একজনও কিন্তু ধূমপান এবং তামাক সেবনে অভ্যস্ত নন। আমার মেঝো ভাই, তাঁর স্ত্রী এবং আমার বড় ভাইয়ের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়েও কথা বলা হলো, এদের তিনজনের কেউও ধূমপান বা তামাক সেবনে অভ্যস্থ নন। আমার বাবা এবং মা উভয়ে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন গত ক’বছর ধরে, উভয়ের কেউই ধূমপান করেন না। তবে আমার মাকে আমার জ্ঞান হবার পর থেকে দেখছি পানের সাথে তামাক (সাদাপাতা) খেতে। তামাক ছাড়া তাঁর চলেই না। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর ধরে তিনি তামাক খেয়ে যাচ্ছেন, তাঁর উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়নি। যতদিন তিনি সাংসারিক পরিশ্রমের কাজকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন, ততদিন তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ছিল না। এখন তাঁর উচ্চ রক্তচাপ, যখন তিনি শারীরিক পরিশ্রম থেকে প্রায় মুক্ত। তাহলে উচ্চ রক্তচাপ কি তামাক সেবনের সাথে সম্পর্কিত, নাকি শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে থাকার সাথে?
ঝুনু রানী পাল নামে আমার এক প্রবীণ মহিলা সহকর্মীর উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের কথা এ লেখায় ইতিপূর্বে আলোচনা করা হলো, যিনি অল্প ক’দিন হলো, হৃদরোগেও আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনিও কিন্তু ধূমপান করেন না। তামাকও সেবন করেন না কখনো। অথচ তাঁর স্বামী ধূমপান করেন বলে তাঁর সাথে কখনো কখনো মনোমালিন্য হয় বলেও তিনি মাঝে মাঝে আমাদের নিকট অকপটে বলে থাকেন। এ মুহূর্তে অনেকে মন্তব্য করে বসতে পারেন, তাঁর স্বামীর ধূমপানের পরোক্ষ ক্ষতির শিকার তিনি। কিন্তু না, তাঁর স্বামীর নিজেরই এখনো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ কিছুই নেই। কারণ তিনি নিয়মিত ধূমপানের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমেও জড়িত থাকেন। বয়স ষাট থেকে পঁয়ষট্টি। তবু নিজ জমিতে তিনি টুকটাক শাক-সবজি চাষ করে অবসর সময় কাটান, শরীর থেকে ঘাম ঝরান, ওজন বাড়তে দেন না। যিনি ধূমপান করেন নিয়মিত, তাঁর যে রোগগুলো নেই, তাঁর ধূমপানের পরোক্ষ ক্ষতি হিসেবে তাঁর সঙ্গীর সে রোগগুলো হবে, এমন দাবি চরম হাস্যকর। একই রকম আরো অনেক ঘটনা আমার জানা আছে।
আরেকটি উল্লেখ করছি। আমাদের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর (যার বাড়ি বিদ্যালয়ের একটু দক্ষিণে) বাবা আব্দুল হান্নান। বয়স ৪৫ বছরের মতো হবে। ধূমপান করেন। পেশাগত কারণে তাঁকে এদিক-ওদিক যেতে হয় প্রায় সময়। মোটরসাইকেল বা রিকশায় চলাফেরা না করে তিনি হেঁটে যাতায়াত করতে পছন্দ করেন। আমি একদিন জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এসব কোনো রোগ নেই। তাঁর হাঁটাহাঁটির অভ্যেসের কথা তুলতেই তিনি বললেন, ‘আমি সচরাচর হেঁটে হেঁটেই এদিক-ওদিক যাই। শুধু বাজার থেকে বেশ ওজনের কোনো ব্যাগ বহন করার সময় রিকশা ব্যবহার করি।’ লোকটি একটু মোটা হওয়া সত্ত্বেও হাঁটাহাঁটিই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে এখনো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ থেকে। ধূমপান তাকে উচ্চ রক্তচাপের কবলে ফেলতে পারেনি। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর কী অবস্থা, জানেন? তাঁর স্ত্রী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। কেন, তিনি কি ধূমপান করেন? না, তিনি ধূমপানও করেন না, তিনি ধূমপানের পরোক্ষ ক্ষতির শিকারও নন, বরং তিনি শারীরিকভাবে স্থূল এবং তাঁর স্বামীর মতো হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ পান কম।
আরেকটি উল্লেখ করছি। আমাদের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর (যার বাড়ি বিদ্যালয়ের একটু দক্ষিণে) বাবা আব্দুল হান্নান। বয়স ৪৫ বছরের মতো হবে। ধূমপান করেন। পেশাগত কারণে তাঁকে এদিক-ওদিক যেতে হয় প্রায় সময়। মোটরসাইকেল বা রিকশায় চলাফেরা না করে তিনি হেঁটে যাতায়াত করতে পছন্দ করেন। আমি একদিন জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এসব কোনো রোগ নেই। তাঁর হাঁটাহাঁটির অভ্যেসের কথা তুলতেই তিনি বললেন, ‘আমি সচরাচর হেঁটে হেঁটেই এদিক-ওদিক যাই। শুধু বাজার থেকে বেশ ওজনের কোনো ব্যাগ বহন করার সময় রিকশা ব্যবহার করি।’ লোকটি একটু মোটা হওয়া সত্ত্বেও হাঁটাহাঁটিই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে এখনো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ থেকে। ধূমপান তাকে উচ্চ রক্তচাপের কবলে ফেলতে পারেনি। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর কী অবস্থা, জানেন? তাঁর স্ত্রী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। কেন, তিনি কি ধূমপান করেন? না, তিনি ধূমপানও করেন না, তিনি ধূমপানের পরোক্ষ ক্ষতির শিকারও নন, বরং তিনি শারীরিকভাবে স্থূল এবং তাঁর স্বামীর মতো হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ পান কম।
আমাদের বিদ্যালয়ের পাশে রোকনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃষ্ণ পদ দেবনাথ নামক একজন প্রবীণ শিক্ষক আছেন। পঞ্চান্নর মতো হবে বয়স। প্রতিদিন দু’তিন কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। বাড়িতেও কৃষিকাজের সাথে সম্পর্ক থাকায় নানান শারীরিক পরিশ্রম করে থাকেন। সিগারেটও খান। কিন্তু শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিসের মতো কোনো রোগ এখনো নেই (তবে এটা ঠিক, যেভাবে ধীরে ধীরে সাইকেল চালান, এভাবে চালালে এবং শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা কখনো কমিয়ে দিলে তিনিও একসময় রোগগুলোতে আক্রান্ত হতে পারেন।)।
এরকম অনেক অনেক মানুষ আমার পরিচিতজনদের মধ্যে আছেন, যারা ধূমপান বা তামাক সেবন করছেন, কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। সবার কথা একে একে বলতে গেলে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার ধৈর্য অনেকেই হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই নিরপেক্ষভাবে সবাইকে একটু তার পরিচিতজনদের দিকে চোখ বুলাতে অনুরোধ করছি। একটু মন দিয়ে দেখলে সবাই এরকম অসংখ্য মানুষ খুঁজে পাবেন, যাদের অনেকে ধূমপান ও তামাক সেবন করেন না, তবু উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত। আবার অনেকেই ধূমপান ও তামাক সেবনে অভ্যস্ত, কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত নন। প্রশ্ন হচ্ছে, বাস্তবতা যখন এরকম, তখন কেন বলা হচ্ছে, ধূমপান ও তামাক সেবন উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত হবার কারণ?
এরকম অনেক অনেক মানুষ আমার পরিচিতজনদের মধ্যে আছেন, যারা ধূমপান বা তামাক সেবন করছেন, কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। সবার কথা একে একে বলতে গেলে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার ধৈর্য অনেকেই হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই নিরপেক্ষভাবে সবাইকে একটু তার পরিচিতজনদের দিকে চোখ বুলাতে অনুরোধ করছি। একটু মন দিয়ে দেখলে সবাই এরকম অসংখ্য মানুষ খুঁজে পাবেন, যাদের অনেকে ধূমপান ও তামাক সেবন করেন না, তবু উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত। আবার অনেকেই ধূমপান ও তামাক সেবনে অভ্যস্ত, কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত নন। প্রশ্ন হচ্ছে, বাস্তবতা যখন এরকম, তখন কেন বলা হচ্ছে, ধূমপান ও তামাক সেবন উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত হবার কারণ?
আমাদের বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে ইসলাম ধর্ম। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে, যেখানে ধর্ম বড় ধরনের কোনো আলোচ্য বিষয় নয়। সেসব দেশের মানুষ বিষয়টা বুঝতে কষ্ট হতে পারে। তাই ধর্মের পরিবর্তে আধ্যাত্মিকতা বললে সবাই একটু ভালো করে বুঝতে পারবে। বাংলাদেশে যারা এই আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী, ধূমপান তাদের নিকট খুবই ঘৃণিত একটি বিষয়। তবু এদেশের অনেক মানুষ ধূমপান করে। ধূমপায়ীদের শতকরা হার বের করা কঠিন। তবে মনে হয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পুরুষ আমাদের দেশে ধূমপান করে। কিন্তু পৃথিবীর যেসব দেশের মানুষ ৫০ শতাংশের বেশি ধূমপান করে সেসব দেশে যদি একশ’জন হৃদরোগীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায় তাদের মধ্যে ৬০/৭০ জন বা অধিকাংশই ধূমপায়ী, তখন এটা সবাই ধরে নেবে, ধূমপানে হৃদরোগ হয়। ধূমপানের প্রতি ব্যাপক প্রচলিত একটি সাধারণ নেতিবাচক ধারণাও এ ধরনের জরিপের ক্ষেত্রে এমন অনুসিদ্ধান্তের আগুনে ঘি ঢেলে থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের রোগীদের উপর জরিপের ক্ষেত্রেও এরকম ঘটনাই ঘটবে। কিন্তু বাংলাদেশে, আধ্যাত্মিকতায় ব্যাপক বিশ্বাসের দেশে, একইভাবে একশ’জন হৃদরোগী বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী বা ডায়াবেটিসের রোগীর ওপর জরিপ চালালে দেখা যাবে, এদের অধিকাংশই ধূমপানে অভ্যস্ত নয়। ধূমপানকে তাহলে কোন যুক্তিতে এসব রোগের জন্য দায়ী বলা যাবে?
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দু’টি ধারা আছে। একটি জাগতিক, একটি আধ্যাত্মিক (স্কুল এবং মাদ্রাসা)। অসংখ্য মানুষ আছে, যারা আধ্যাত্মিক ধারায় (মাদ্রাসা) পড়াশুনা করেছে, ‘আলেম’ বা ‘হাফেজ’ হয়েছে, তারা সঙ্গত কারণেই ধূমপান থেকে দূরেই শুধু থাকেন না, ধূমপান এবং ধূমপায়ী উভয়কে ঘৃণা করেন। মনে করেন, ধূমপান একটি পাপের কাজ। ধূমপানে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এসব রোগ হয় বলে যারা মনে করেন, তারা জেনে বিস্মিত হবেন, এরকম হাজার হাজার ‘হাফেজ’ ও ‘আলেম’ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়ে কঠিন জীবন যাপন করছেন, প্রতিদিনই এদের অনেকে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছেন। আমাদের দেশের চিকিৎসকগণের নিকট হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এ রোগগুলো নিয়ে যেসব রোগী চিকিৎসা নিতে যায়, তাদের মধ্যে আলেম, হাফেজ বা ধার্মিক লোকের সংখ্যা কেমন, তা একটু আলাদাভাবে দেখলে বিষয়টার গভীরতা কিছুটা উপলব্ধি করা যাবে।
আমার পরিচিতজনদের মধ্যেও এরকম অনেক আলেম, হাফেজ বা ধার্মিক লোক আছেন, যারা এসব রোগের কবলে পড়ে কঠিন জীবন যাপন করছেন। ধূমপান থেকে যারা নিজেদেরকে অনেক দূরে রাখছেন, তারা কিভাবে এসব রোগে আক্রান্ত, এ লেখা যারা খোলা মন নিয়ে পড়ছেন, তারা আশা করি তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবেন। হ্যাঁ, বাংলাদেশে বা অন্য যে কোনো দেশে যারা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, তারা ধূমপানের কারণে নয়, শরীরে চর্বি-কোলেস্টেরল বাড়তে দেয়া ও পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমহীন জীবন যাপন করার কারণে আক্রান্ত হয়েছেন। এসব রোগের জন্য ভালোভাবে যাচাই ব্যতীত ধূমপানকে দোষারোপ করে আমরা বরং এসব রোগকে আমাদেরকে আক্রমণ করে যাবার অবাধ সুযোগ করে দিচ্ছি ।
পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের সাথে আমাদের দেশের আরেকটি বড় পার্থক্য রয়েছে। আমাদের দেশের মহিলারা অধূমপায়ী, যেখানে অনেক দেশের মহিলারা সচরাচর ধূমপান করে থাকেন। আমাদের দেশেরই কোনো কোনো জরিপে মহিলা ধূমপায়ীর সংখ্যা যা দেখানো হয়, তা বাস্তবতার ধারেকাছেও নেই। আমার কোনো মহিলা আত্মীয় বা পরিচিতজন ধূমপায়ী নেই। বাংলাদেশে আমার জন্মের পর থেকে যত মহিলা দেখেছি বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন সময়, এক বা দু’জন ছাড়া আর কাউকে দেখিনি ধূমপান করতে। যে দু’একজনকে দেখেছি, তারা এদেশের কোনো স্থায়ী বাসিন্দা নয়, উপজাতির মতো। অবশ্য শহরে কিছু ভার্সিটিতে অধ্যয়নরত উঠতি বয়সী কিছু মেয়ে শিক্ষার্থী ইদানিং ধূমপানের দিকে ঝুঁকছে। দেশের মোট অধূমপায়ী নারীদের তুলনায় এদের সংখ্যা একেবারে নগণ্য।
বাস্তবিকপক্ষে এদেশে মহিলা ধূমপায়ীর প্রকৃত সংখ্যাটা বের করা খুবই দুঃসাধ্য একটি কাজ হবে। লক্ষের মধ্যে একজন মহিলা যে দেশে ধূমপায়ী নেই, লক্ষ লক্ষ মহিলা সেদেশে এখন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তাহলে কিভাবে প্রমাণ করা যাবে, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হবার একটি কারণ ধূমপান? হ্যাঁ, একটা ফাঁক আছে। অনেকে বলবেন, বাংলাদেশে মহিলারা সচরাচর ধূমপান না করলেও অনেকেই তামাক (সাদাপাতা, জর্দা, গুল ইত্যাদি) সেবন করে থাকেন। তামাক সেবনের কারণেই তাদের এসব রোগ হয়। ঠিক আছে, যদি এটা সঠিক ধরে নেয়া হয় যে, তামাক সেবন এসব রোগের কারণ, তাহলে এটাও সঠিক বলে প্রমাণিত হয় যে, এসব রোগের জন্য ‘ধূমপান’ তথা ধোঁয়া পান দায়ী নয়! কারণ ধোঁয়া ‘পান করা’ আর তামাক তথা জর্দা, সাদাপাতা, গুল ‘খাওয়া’ এক নয়। তাছাড়া ধোঁয়া পান করলে সে ধোঁয়া নাকি যায় ফুসফুসে (?) আর তামাক খেলে তা যায় পাকস্থলীতে। কোনটা সঠিক? ধোঁয়া পান করা নাকি তামাক খাওয়া ক্ষতিকর? অনেকে উত্তরে বলবেন, ‘ধোঁয়া পান করা আর তামাক খাওয়া একই কথা। কারণ উভয়ে নিকোটিন থাকে। নিকোটিনই মানুষের ক্ষতি করে।’ যদি তা-ই হয়, তাহলে সিগারেটের প্যাকেটে -‘ধূমপান’ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর- কথাটি কেন লেখা হয়? লেখা তো উচিত -‘তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’, বা ‘নিকোটিন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’, তাই না? কোনো একটা জায়গায় নিশ্চয়ই সমস্যা আছে।
সমস্যা আছে বলে যারা মানতে রাজি নন, কী বলবেন তারা, যখন তাদের সামনে অসংখ্য লোক ধূমপান এবং তামাক থেকে দূরে থাকার পরও হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন? আবার এমন অনেক লোকও সমাজে আছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ধূমপানও করে যাচ্ছেন আবার পান খেতে গিয়ে পানের সাথে জর্দাও খেয়ে যাচ্ছেন, তবু শরীরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো কোনো রোগ নেই।
আমাদের বাড়ির পশ্চিমে এক বাড়ির একজন লোক আছে সুলতান নামে, অশীতিপর বৃদ্ধ। ৯ মার্চ ২০১৮ তারিখ সন্ধ্যায় আমি বাড়ি ফেরার পথে তাঁর সাথে দেখা হলো। সামান্য আলাপ করলাম। জানতে পারলাম, তিনি রিকশা চালাচ্ছেন দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে! মোটরচালিত রিকশা সহজলভ্য হবার পরও তিনি পায়েচালিত রিকশাই চালিয়ে যাচ্ছেন। শরীরে এখনো হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো কোনো রোগ নেই। কথা এখানেই শেষ নয়, তিনি ধূমপানও করে যাচ্ছেন অনেক বছর ধরে, কিন্তু এখনো ধূমপানজনিত কোনো সমস্যা অনুভব করছেন না। সুলতান নামক এ লোকের সাথে আলাপের আগে আরেকজন রিকশাচালকের সাথে আলাপ করলাম। তিনিও বৃদ্ধ। পায়েচালিত রিকশাই চালান এখনো। ছোটবেলা থেকেই ধূমপানে অভ্যস্ত। কিন্তু শরীরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস এসব কোনো রোগ নেই। শুধু একটু কাশি আর অ্যাসিডিটি সমস্যা আছে। আমাদের দেশে রিকশাচালকদের সাধারণ একটা অভ্যেস ধূমপান। এদের অনেকে আবার পানের সাথে জর্দাও খেয়ে থাকেন নিয়মিত। বিশ-ত্রিশ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে পায়েচালিত রিকশাও চালান, ধূমপানও করেন, এমন কয়েকজন লোকের সাথে আলাপ করে যে কেউ জানতে পারবেন, এরা এখনো হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস ইত্যাদি থেকে মুক্ত।
আমাদের বাড়ির পশ্চিমে এক বাড়ির একজন লোক আছে সুলতান নামে, অশীতিপর বৃদ্ধ। ৯ মার্চ ২০১৮ তারিখ সন্ধ্যায় আমি বাড়ি ফেরার পথে তাঁর সাথে দেখা হলো। সামান্য আলাপ করলাম। জানতে পারলাম, তিনি রিকশা চালাচ্ছেন দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে! মোটরচালিত রিকশা সহজলভ্য হবার পরও তিনি পায়েচালিত রিকশাই চালিয়ে যাচ্ছেন। শরীরে এখনো হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো কোনো রোগ নেই। কথা এখানেই শেষ নয়, তিনি ধূমপানও করে যাচ্ছেন অনেক বছর ধরে, কিন্তু এখনো ধূমপানজনিত কোনো সমস্যা অনুভব করছেন না। সুলতান নামক এ লোকের সাথে আলাপের আগে আরেকজন রিকশাচালকের সাথে আলাপ করলাম। তিনিও বৃদ্ধ। পায়েচালিত রিকশাই চালান এখনো। ছোটবেলা থেকেই ধূমপানে অভ্যস্ত। কিন্তু শরীরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস এসব কোনো রোগ নেই। শুধু একটু কাশি আর অ্যাসিডিটি সমস্যা আছে। আমাদের দেশে রিকশাচালকদের সাধারণ একটা অভ্যেস ধূমপান। এদের অনেকে আবার পানের সাথে জর্দাও খেয়ে থাকেন নিয়মিত। বিশ-ত্রিশ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে পায়েচালিত রিকশাও চালান, ধূমপানও করেন, এমন কয়েকজন লোকের সাথে আলাপ করে যে কেউ জানতে পারবেন, এরা এখনো হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস ইত্যাদি থেকে মুক্ত।
আমাদের বাড়ি থেকে কয়েক বাড়ি দক্ষিণের এক বাড়ির আবুল খায়ের নামক একজন খেটে খাওয়া লোক আছেন, যিনি শারীরিক পরিশ্রমের কাজের সাথে জড়িত ৪৪ বছর ধরে। সেদিন দেখলাম এক দোকান থেকে পান নিচ্ছেন খেতে আর দোকানদারকে বলছেন পানের সাথে একটু জর্দা দিতে। জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, তিনি ৪৪ বছর ধরে মাটিকাটার কাজ করছেন এবং তাঁর ধূমপানের বয়সও ৪৪ বছর! ৪৪ বছর ধরে ধূমপান করছেন আবার তামাকও খাচ্ছেন, তবু এখনো কিভাবে বেঁচে আছেন?! তাঁর তো এ পর্যন্ত কয়েক বার মারা যাবার কথা! শুধু তিনি নন, এরকম আরো অসংখ্য মানুষ আছে, যারা একই সাথে ধূমপান এবং তামাক ব্যবহার করছেন, কিন্তু হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থেকে এখনও নিরাপদ আছেন। খুঁজে দেখলে সবাই নিজের আশপাশে এরকম অনেক লোক খুঁজে পাবে। সুতরাং ধূমপান ও তামাক সেবনকে অন্য কোনো ক্ষতির জন্য দায়ী বলা গেলেও হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী মনে করাটা ভুল।
আরেকটি কথা, যারা বলেন, বাংলাদেশে মহিলারা ধূমপান না করলেও কী হবে, তামাক সেবনের কারণে এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, তারা হয়তো একটি বিষয় লক্ষ্য করেননি। আগের চেয়ে আমাদের দেশের মানুষের, বিশেষ করে মহিলাদের, পান, সাদাপাতা, জর্দা তথা তামাক সেবনের প্রবণতা অনেক কমেছে। যে কোনো কারণে হোক, মহিলারা এখন এসব খাচ্ছেন কম। আমার দু’বোনের কেউ পান-জর্দা খেতে অভ্যস্ত নন। মাঝে মাঝে পান খেলেও শুধু সুপারি দিয়েই খান, সাদাপাতা, জর্দা মোটেই খান না। আমাদের চার ভাইয়ের কোনো স্ত্রীরই পান খাওয়ার অভ্যেস নেই। কালেভদ্রেও খান না। হয়তো মাঝে মধ্যে খাওয়া-দাওয়ার পর একটু সুপারি মুখে দেন। আমাদের বিদ্যালয়ে পাঁচজন মহিলা শিক্ষক আছেন। তাঁরাও কেউ পান খেতে অভ্যস্ত নন। মাঝে মধ্যে সুপারি খান একটু। আগেও আরো দু’জন মহিলা শিক্ষক ছিলেন, এখন অন্য বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে গেছেন। তাঁরাও পান-জর্দা খেতেন না। এরকম আরো অনেক মহিলার কথা জানি, যাদের পান খাওয়ার অভ্যেস নেই। এরপরও নতুন প্রজন্মের মহিলারা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে বেশি আক্রান্ত হন। অথচ আগেকার মহিলারা পান-জর্দা খেতেন বেশি, তারা এসব রোগে আক্রান্ত হতেন কম। এর দ্বারা কি এটা প্রতীয়মান হয় যে, পান-জর্দা খেলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস কম হয় আর না খেলে বেশি হয়?! মোটেই নয়। বরং পান-জর্দা কম-বেশ যা-ই খাওয়া হোক, তাতে সমস্যা নেই, শারীরিক পরিশ্রমের সাথে যত বেশি সম্পর্ক রাখা যাবে, তত এসব রোগ মানুষ থেকে দূরে থাকবে আর সম্পর্ক যত কম রাখা হবে, এসব রোগ তত বেশি মানুষের কাছে আসবে।
পৃথিবীর সব দেশের মানুষ কিন্তু পান, জর্দা, সাদাপাতা তথা ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনে অভ্যস্ত নয়। উত্তর আমেরিকা, উত্তর ইউরোপ, আফ্রিকার কিছু দেশ এবং বাংলাদেশ, ভারতসহ এশিয়ার কিছু দেশে এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এসব দেশের মানুষ যারা পান, জর্দা, সাদাপাতা তো খান-ই না, ধূমপানও করেন না, তারা কি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ থেকে নিরাপদ থাকেন বা এসব রোগে অন্যদের তুলনায় আনুপাতিকহারে খুব কম আক্রান্ত হন?
৩৬তম পর্ব:
https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_4.html

0 Comments: