Headlines
Loading...
দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-১৬) : শরীর সুস্থ রাখার জন্য কী প্রয়োজন?

দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-১৬) : শরীর সুস্থ রাখার জন্য কী প্রয়োজন?


ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে



দীর্ঘজীবন লাভের উপায়


শরীর সুস্থ রাখার জন্য কী প্রয়োজন?


কোলেস্টেরলকে যারা শরীরের জন্য উপকারি মনে করেন, তারা মনে হয় ভুল করছেন। প্রকৃতপক্ষে আমাদের শরীরে শক্তির জন্য, শরীর সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজন সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি এবং বায়ু। আমাদের শরীর একটি রিচার্জেবল ডিভাইসের মতোই। রিচার্জেবল ডিভাইস যেভাবে সব পার্টস যখন ঠিক থাকে তখন চার্জ শেষ হয়ে গেলে শুধু পুণরায় চার্জ দিলে ঠিকমতো কাজ করে, আমাদের শরীরকেও, যখন সুস্থ থাকে, ক্ষুধা লাগলে পর্যাপ্ত খাবার দিলে তা ঠিকঠাক মতো কাজ করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য নেই, পেট সবসময় পরিষ্কার থাকে, তারা ঠিকমতো খাবার খেলে তাদের শরীরে শক্তির অভাব হয় না, চর্বি বা কোলেস্টেরল তেমন একটা না থাকলেও। সুতরাং বিষকে মধু বলাটা ‘খাল কেটে কুমির আনা’রই নামান্তর।



অধ্যায়-১৫
শারীরিক পরিশ্রমকে ‘না’ নয়

শারীরিক পরিশ্রমের কাজগুলোকে আমরা দিন দিন পরিত্যক্তের তালিকায় ফেলে দিচ্ছি। অতিমাত্রায় আরামপ্রিয় হয়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের আরামপ্রিয় হবার প্রবণতা দেখে বিজ্ঞানও আমাদেরকে আরামদায়ক সব প্রযুক্তি উপহার দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শারীরিক পরিশ্রমের কাজকে আমরা আত্মসম্মানবিরোধীও মনে করা শুরু করেছি। কষ্টদায়ক কাজ করতে আমরা চরম আলসেমির পরিচয় দিচ্ছি। পরিশ্রমের সামান্য কাজও আমরা নিজ হাতে করতে চাই না। ভাড়াটে লোক দিয়ে সব কাজ সারতে চাই। যে কাজটি নিজে নিজে করার সময় নেই, তা-ই কেবল অন্যকে দিয়ে করানো যেতে পারে। কিন্তু তা না করে আমরা আমাদের পরিশ্রমের সব কাজ শ্রমিক দিয়ে করিয়ে প্রকারান্তরে শ্রমিকদেরকেই নিজেদের সুস্থতাটা দিয়ে নিজেদেরকে অসুস্থতার হাতে সমর্পণ করছি। এটা অবশ্যই একটা আত্মঘাতি প্রবণতা।


পৃথিবীর কিছু কিছু দেশের মানুষ প্রাচুর্যে থেকেও শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে কুন্ঠা বোধ করে না। ফয়সাল নামে আমার এক আত্মীয় দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে জাপান থাকে। তার সাথে আমার সরাসরি কথা হয় না কখনো। ওদের পরিবার ঢাকা’য় থাকে আর আমরা থাকি গ্রামে। তবে তার বড় ভাই ফরহাদের সাথে মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয়। কথায় কথায় অনেক সময় ফয়সালের প্রসঙ্গ চলে আসে। ফয়সালের কথা বলতে গিয়ে সঙ্গত কারণে চলে আসে জাপান-প্রসঙ্গও। জাপান সম্পর্কে যে বিষয়গুলো ফয়সালকে অবাক করে বলে ফরহাদ আমাকে বলে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ১. জাপানে চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী নেই বললেই চলে। পকেটভরা টাকা নিয়ে একাকী পথ চললেও কেউ পিছু নেয় না, পৃথিবীর অনেক দেশে যা কল্পনা করা কঠিন। ২. সেখানে শ্রমের মূল্য অনেক। শ্রমিককে কোনোভাবে ঠকানো হয় না। বরং কোনো শ্রমিক তার নির্ধারিত সময়ের বেশি পাঁচ মিনিট কাজ করলেও তাকে আরো এক ঘন্টার পারিশ্রমিক দেয়া হয়। ৩. প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও শ্রমিকের সাথে শ্রমিকের মতোই কাজ করে। অনেক সময় শ্রমিকের চেয়েও প্রতিষ্ঠান-প্রধান বেশি পরিশ্রম করে থাকে।

জাপানের প্রতিষ্ঠান-মালিকদের সম্পর্কে এমন কথা আরো অনেকের মুখে শুনেছি। জাপানের সামগ্রিক মানুষের বিনয় এবং পরিশ্রমী মানসিকতারই অংশ এটা। এমন গুণ উন্নত অনেক দেশের অনেক মানুষের মধ্যেও আছে। তবে জাপানের মানুষের কথাটা বেশি কানে আসে। বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট লেখক ডা: লুৎফর রহমান খুব মূল্যবান একটা কথা বলেছেন, ‘হাতে কাজ করায় অগৌরব নেই, অগৌরব হয় মিথ্যা, মূর্খতা আর নীচতায়’। জাপানের মানুষের মধ্যে কথাটির প্রতিফলন বেশি দেখা যায়।

১০ মার্চ ২০১৯ তারিখের প্রথম আলোয় ‘বিশ্বের বয়স্কতম ব্যক্তি জাপানের কানে তানাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ‘নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বের বয়স্কতম ব্যক্তি এখন জাপানের কানে তানাকা (১১৬)। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে। তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে গিনেস কর্তৃপক্ষ বলেছে, ১১৬ বছর বয়সে এসেও জাপানি এই নারীর গণিতে ভীষণ উৎসাহ। বোর্ড গেম ওথেলোরও একজন পাকা খেলোয়াড় তিনি।...’
প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গড় আয়ুর দেশ জাপান। বয়স্কতম ব্যক্তির বেশির ভাগ রেকর্ডও তাদের দখলে। জাপানিদের খাদ্যতালিকায় চর্বি বা স্নেহজাতীয় খাবার কম থাকে। মাছ, ভাত, শাকসবজি বেশি খায় তারা। বয়স আশির কোঠায়ও জাপানিরা বেশ কর্মঠ থাকেন।...’ [এএফপি, টোকিও]

আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে আমরা অনেক কাজ নিজে না করে অন্যকে দিয়ে করাই। এমন কাজগুলো অন্যকে দিয়ে করালে লাভও আছে, ক্ষতিও আছে। লাভ দু’টি- ১. কষ্ট থেকে রক্ষা ও ২. আত্মসম্মান রক্ষা; ক্ষতিও দু’টি- ১. পয়সা খরচ ও ২. শারীরিক উপকারের সুযোগ হারানো।
অর্থ সাশ্রয়ের জন্য নয়, আমার মনে হয়, শুধু শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ হাতছাড়া না করার জন্য আমাদের বাহ্যিক লাভ দু’টো ত্যাগ করে যথাসম্ভব নিজের কাজ নিজেই করা উচিত। শারীরিক সুস্থতার গুরুত্ব বুঝতে পারলে ও জীবনের মূল্য দিতে জানলে কায়িক শ্রমের কাজের প্রতি আমরা অবশ্যই উৎসাহিত হবো।

মনে রাখতে হবে, শারীরিক পরিশ্রমের কাজ থেকে পালিয়ে থাকা যাবে, কিন্তু পালাতে গেলে আমাদেরকে রোগের খপ্পরে পড়তেই হবে। দু’টি বিষয়ের কোনো একটি আমাদেরকে বেছে নিতে হবে- শারীরিক পরিশ্রমের কাজ থেকে দূরে থেকে রোগাক্রান্ত হয়ে আগেভাগেই পৃথিবী থেকে চলে যাবার পথ তৈরি করা অথবা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করে সুস্থ-সবল শরীর নিয়ে দীর্ঘ জীবন লাভের পথ সহজ করা।


১৭তম পর্ব পড়তে হলে এখানে ক্লিক করুন

Occupation: Teaching, Hobbies: Writing

0 Comments: