Headlines
Loading...
দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-২৮) : মহিলারা কিভাবে শারীরিকভাবে ফিট থাকবেন?

দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-২৮) : মহিলারা কিভাবে শারীরিকভাবে ফিট থাকবেন?

ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে


দীর্ঘজীবন লাভের উপায়


অধ্যায়-২৮
মহিলাদের জন্য কিছু বিশেষ পরামর্শ

পুরুষদের মতো মহিলারাও এখন অহরহ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলা তো এখন প্রায় প্রতি ঘরেই রয়েছে। ২০১৭ সালের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ‘প্রতি বছর ২১ লাখ নারী শুধু ডায়াবেটিসের কারণে মৃত্যুবরণ করে।’ আইডিএফ তাই ২০১৭ সালে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে, ‘নারী ও ডায়াবেটিস : স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ আমাদের অধিকার’।


আমার এক সহকর্মী, ঝুনু রানী পাল, যাঁরা পাঁচ বোনের মধ্যে তিন বোনেরই ডায়াবেটিস। আরেকজন সহকর্মী, নাজনীন আক্তার, যাঁরা চার বোনের মধ্যে তিন বোনেরই ডায়াবেটিস। আমার এক আত্মীয়ের কথা এ লেখায় অন্য এক জায়গায় বলা হয়েছে, যাঁর পরিবারের পাঁচ জন সদস্যেরই ডায়াবেটিস। এ পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই মহিলা! মামুন নামে আমার এক বন্ধু আছে। ওর বোন মোট ৫ জন, যাদের ৪ জনেরই ডায়াবেটিস! যে ৪ জনের ডায়াবেটিস, ওদের ২ জনের বয়স চল্লিশের বেশি, ২ জনের বয়স চল্লিশের কম। আমার আত্মীয় এবং পরিচিতজনদের মধ্যে এরকম আরো অসংখ্য মহিলা আছেন, যারা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, পরিশ্রমের কাজ আগের চেয়ে অনেক কমে যাওয়া, যে কাজগুলো আগে অনেক ঘাম ঝরিয়ে করতে হতো, প্রযুক্তির আশীর্বাদে সেসব কাজ সহজ ও আরামপ্রদ হয়ে যাওয়া, আরামপ্রিয় জীবন যাপন পছন্দ করা এবং বেশি বেশি মুটিয়ে যাওয়া।
তাই পুরুষের মতো মহিলারাও রোগগুলো থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আগ থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। মহিলারা এসব রোগের উপদ্রব থেকে বাঁচার জন্য কিছু পরামর্শ উল্লেখ করা হলো।

* গৃহস্থালীর কাজকর্ম নিজ হাতে করার চেষ্টা করুন, কাজের লোক দিয়ে না করিয়ে। বেশ প্রয়োজন ছাড়া কাজের লোক রাখতে যাবেন না। প্রেস্টিজ নিয়ে ভাবলে একসময় রোগাক্রান্ত হয়ে যাবেন। রোগাক্রান্ত হয়ে গেলে আগের সুস্থতা আর কখনো ফিরে পারবেন না, যতোই চিকিৎসা করেন, যতো টাকাই খরচ করেন।

* যেসব কাজ প্রযুক্তি বা মেশিন ছাড়া নিজ হাতে করতে পারবেন, সেগুলো নিজ হাতে করতেই অভ্যস্থ হোন। উদ্দেশ্য থাকবে কাজের ছলে শরীর থেকে একটু ঘাম ঝরানো, ব্যায়াম করা।

* জিমের কোনো মেশিন ঘরে রাখতে পারেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ব্যায়াম করুন। অন্ততঃ চল্লিশ মিনিট। অনেক মহিলা জিমে গিয়েও নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকে।

* বাড়ির আঙিনায়, ঘরের পাশে খালি জায়গায় (যদি থাকে) বা সুবিধামতো যে কোনো স্থানে দড়িলাফ দিতে পারেন প্রতিদিন বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট।

* সকাল বেলায় রাস্তায় বা পার্কে হেঁটে আসতে পারেন ঘন্টাখানেক। যাবার সময় সাথে কাছের কাউকে রাখতে পারেন, তারও ব্যায়াম হয়ে যাবে। আপনার ব্যায়ামটাও হবে উপভোগ্য।

* বাইরে কোথাও যাবার প্রয়োজন হলে হেঁটে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন, যদি দূরত্বটা দু’এক কিলোমিটারের মধ্যে হয়।

* এককথায় প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে পরিশ্রম করে শরীরে থেকে ঘাম ঝরান; শরীরকে অতিরিক্ত মেদ-চর্বি থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন; ফ্রি সময়গুলোতে শুয়ে বসে না থেকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করুন; চাহিদার চেয়ে কম খাওয়ার অভ্যেস করুন এবং মুটিয়ে না গিয়ে স্লিম থাকার চেষ্টা করুন। আশা করি সুস্থ জীবন নিয়ে দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারবেন।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সম্পর্কে কিছু কথা

অনেক নারী গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। অনেকেই মনে করেন, এ অবস্থায় রোগটা এমনি এমনিই হয়ে থাকে। উইকিপিডিয়ায় দেখলাম ডায়াবেটিসকে তিন ভাগে ভাগ করেছে: ১. টাইপ ১ ডায়াবেটিস, ২. টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং ৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সম্পর্কে বলেছে, ÔGestational diabetes is the third main form, and occurs when pregnant women without a previous history of diabetes develop high blood sugar levels.Õ [https://en.wikipedia.org/wiki/Diabetes_mellitus]

‘গর্ভকালীন ডায়াবেটিস’ নামক ধারণাটি একটি ভুল ধারণা। ডায়াবেটিসের সাথে গর্ভধারণের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং অন্য সময় একজন মানুষ যে সব কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, গর্ভাবস্থায় সেসব কারণ একজন নারীর মধ্যে পাওয়া গেলেই তার ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। অনেক নারী গর্ভবতী হবার পর পরই প্রাত্যহিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে অনেকটা বেড রেস্টে চলে যান, স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে দূরে রাখেন, নিজের কাজগুলো অন্যকে দিয়ে করান, সারাক্ষন শুয়ে-বসে থাকার পাশাপাশি গর্ভের সন্তান হৃষ্টপুষ্ট হবার জন্য পুষ্টিকর খাবার খান বেশি বেশি। ফলে অতিরিক্ত মুটিয়ে যান। দেখা যায় এরকম মহিলারাই গর্ভবতী অবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। কিন্তু কিছু না ভেবে মনে করেন সন্তান গর্ভধারণের পর ডায়াবেটিস এমনি এমনিই হয়।

কিন্তু যেসব নারী এমন করেন না, বরং একেবারে বেড রেস্টে না গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, কাজকর্মে জড়িত থাকেন, তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন না।
এজন্য গর্ভধারণের পর একেবারে শুয়ে-বসে না থেকে প্রথম পাঁচ-ছয় মাস স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা, কাজকর্ম করলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হবার তেমন কোনো আশঙ্কা থাকে না, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবারও সম্ভাবনা থাকে না। শেষ দু’তিন মাস একটু সতর্ক হয়ে চলাফেরা করলেই হয়। তখন পুষ্টিকর খাবার খেতেও দোষ নেই।

৭ মার্চ ২০১৯ তারিখের প্রথম আলোয় একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয় ‘অন্তঃসত্ত্বা নারীর ব্যায়াম’ শিরোনামে। লিখেছেন উম্মে শায়লা রুমকী। নিবন্ধটিতে বলা হয়, ‘অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বেশি নড়াচড়া করা বা ব্যায়াম করা, হাঁটাহাঁটি করা বারণ - এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু এই ধারণা পাল্টেছে। বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নানা ধরনের ব্যায়ামকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিদেশে এ সময় মেয়েরা ব্যায়ামাগারে গিয়ে নানা ধরনের ব্যায়াম চর্চা করেন।

গর্ভকালীন ব্যায়ামের উপকারিতা কী? নিয়মিত ব্যায়ামে পেশিশক্তি বৃদ্ধি পায়, হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ে। গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়। পায়ে রগ টানা, কোমর ব্যথা, পা ফোলার মতো সমস্যা কম দেখা দেয়। গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য একটা খুব পরিচিত সমস্যা। নিয়মিত ব্যায়ামে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। যাঁরা স্বাভাবিক প্রসব বা নরমাল ডেলিভারি আশা করছেন, তাঁদের জন্য ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এতে শক্তি বাড়ে, মানসিক চাপও কমে। সব মিলিয়ে স্বাভাবিক প্রসব ত্বরান্বিত হয়।...’

সুতরাং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গর্ভের সন্তান এবং মায়ের সুস্থতার জন্য শুয়ে-বসে থাকা উপকারী নয়, বরং ক্ষতিকর। এ সময় শুয়ে-বসে থাকার চেয়ে নড়াচড়ায় থাকা, গৃহস্থালীর টুকটাক কাজ করা, এমনকি ব্যায়াম করা মা এবং গর্ভস্থ সন্তান উভয়ের জন্য কল্যাণকর।

২৯তম পর্ব:
https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_15.html

Occupation: Teaching, Hobbies: Writing

0 Comments: