দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-২৫) : আরামদায়ক প্রযুক্তি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত
ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে
অধ্যায়-২৫
আরামদায়ক প্রযুক্তি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত
বর্তমান সময়ে রোগব্যাধি বেড়ে যাবার জন্য আরামদায়ক প্রযুক্তিগুলোকে দায়ী না করে পারা যায় না। মানুষ একসময় হেঁটে হেঁটে যে পথ অতিক্রম করতো, সে পথ অতিক্রমের জন্য পরবর্তীতে হাজির হয়েছে সাইকেল। মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু পরে যখন সাইকেলের আধুনিকায়ন হলো তথা সাইকেল মোটরচালিত হলো, তখন থেকে মানুষের ক্ষতি হওয়া শুরু। মানুষ আরাম খুঁজতে গিয়ে নানারকম ব্যারামের হাতে ধরা খেতে লাগলো। মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকেই দেখি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কেন এরা মোটরসাইকেল চালানোর পর থেকে এসব রোগে আক্রান্ত হয়, তা এদের অনেকের উপলব্ধিতেই আসে না।
গ্রামাঞ্চলে এখন পায়েচালিত রিকশার পরিবর্তে মোটরচালিত রিকশার ব্যবহার বেশি। রিকশাকে যারা মোটরচালিত করেছে, তাদের বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়। কারণ তারা মানুষের অনেক কষ্ট লাঘব করেছে। কিন্তু রিকশাচালকরা যে এতে দ্রুত রোগাগ্রস্থ হয়ে পড়বে, তা কি তারা চিন্তা করেছে? চার-পাঁচ বছরের মতো হলো মোটরচালিত রিকশা প্রচলনের। কিন্তু ইতোমধ্যেই অনেক রিকশাচালক মুটিয়ে গেছেন। দু’একজনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার সংবাদও আমি জেনেছি ইতিমধ্যে! কৃষিক্ষেতে এখন আরামদায়ক সব প্রযুক্তির জয়জয়কার। এসব আরাম আমাদের বিশাল ক্ষতির জন্য অবশ্যই দায়ী। কৃষকরা যেসব রোগে আগে তেমন একটা আক্রান্ত হতো না, এসব প্রযুক্তি এখন তাদেরকে দ্রুত সেসব রোগের হুমকিতে ফেলছে।
বিল্ডিং নির্মাণের সময় আগে রড কাটতে হতো অনেক পরিশ্রমে। অথচ এখন রড কাটা হয় মেশিনে, সহজে, কষ্ট ছাড়া। আগে মানুষ শ্রমের বিনিময়ে সাশ্রয় করতো সুস্থতা, এখন সুস্থতার বিনিময়ে সাশ্রয় করছে শ্রম! আরামের প্রযুক্তিতে আপাতদৃষ্টিতে উপকার মনে হলেও এ উপকারের ভেতর যে বড় অপকার লুকিয়ে থাকে, তা অনেকে দেখতে পাই না। যতদিন আমরা তা দেখতে অক্ষম হবো, ততদিন আমাদের ক্ষতি হতেই থাকবে, রোগের হাতে আমাদের জীবন বিপন্ন হতেই থাকবে।
আরামদায়ক প্রযুক্তি তথা যন্ত্র যে আমাদের ক্ষতি করছে, এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘যন্ত্রনির্ভর জীবনযাপন আমাদের শারীরিক শ্রমবিমুখ জাতিতে পরিণত করছে। কমবয়সী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই দৈহিক স্থূলতায় ভুগছে। শ্রমবিমুখ জীবনযাপন ডায়াবেটিসসহ সব বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।’ [দৈনিক যুগান্তর, ১৪ নভেম্বর ২০১৬]
আমার কর্মস্থল বাড়ি থেকে ছয় মাইল দূরে। আমি রোজ সাইকেলে যাতায়াত করি। প্রায়ই আমার অনেক হিতাকাঙ্খী আমাকে পরামর্শ দেয় একটা মোটরসাইকেল কিনে নিতে; অনেকের পরামর্শ, নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসতে; অনেকের পরামর্শ, কর্মস্থলের আশপাশে বাসা ভাড়া করে থাকতে। আমার কষ্ট কেউ মেনে নিতে পারে না, আমার আরাম চায় সবাই। কিন্তু আমার আরাম-কষ্ট আর লাভ-ক্ষতি বুঝার সাধ্য আমার আছে বলে কারো কথায় কান না দিয়ে আমি অগ্রাধিকার দিয়েছি কষ্টকর পন্থাকে; চিকন থাকার চেষ্টা করছি। বিনিময়ে নিশ্চিন্তে খেতে পারছি মনের চাহিদামতো যে কোনো খাবার; মুক্ত আছি এখনো জটিল অনেক রোগ থেকে; নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছি। ভবিষ্যতের কথা কেউ জানে না। আমি আবার দুর্ভাগ্যের কুনজরে থাকা একজন মানুষ। জন্মের আগ থেকেই আমি দুর্ভাগা। খুব সাধারণ এক ঘরে আমার জন্ম। বুঝতেই পারছেন, কেন জন্মের আগ থেকেই আমি দুর্ভাগা।
জন্মের পর এখনো দুর্ভাগ্য আমার পিছু লেগে আছে। অনেক বিপদ গেছে ক্ষুদ্র এ জীবনে। এ পর্যন্ত দুর্ভাগ্য আমার এমন অনেক ক্ষতি করেছে, যা পৃথিবীর আর কারো করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। আরও অনেক ক্ষতি করার সম্ভাবনা তো থাকছেই। দুর্ভাগ্য আমার সাথে এমন আচরণ করছে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়ে গেছে, দুর্ভাগ্যের সাথে যুদ্ধ করতে করতেই আমার জীবন শেষ হবে। দুর্ভাগ্যের কাছে আমার চূড়ান্ত পরাজয় হলেও আমি চাই, পৃথিবীর আর সব মানুষ, যারা আমার মতো দুর্ভাগা নয়, নিজের শরীর-স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে দীর্ঘজীবন লাভ করুক। দীর্ঘজীবন লাভের জন্য আরামদায়ক প্রযুক্তি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। হ্যাঁ, আরামে থাকা এবং সব রকমের আরামদায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে অসুবিধে নেই তাদের, যাদের নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় পর্যাপ্ত পরিশ্রম/ব্যায়ামের অভ্যেস আছে।
২৬তম পর্ব:
https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_10.html

0 Comments: