দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-২৪) : সুস্থ থাকতেই সুস্থতার যত্ন নেয়া উচিত
ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে
অধ্যায়-২৪
সুস্থ থাকতেই সুস্থতার যত্ন নেয়া উচিত
জন্ম থেকেই আমি শুকনো শরীরের মানুষ। শুকনো থাকার ওপর আগে কখনোই সন্তুষ্ট ছিলাম না। হীনমন্যতায় ভুগতাম নিজের হালকা শরীর নিয়ে। মোটা হবার একটা নিরন্তর আকাঙ্ক্ষা ছিল। মোটা হলেই মানুষকে ফিট দেখা যায়, স্মার্ট লাগে, এজন্যই হয়তো। চাকরির ইন্টার্ভিউতে অনেক সময় এই ‘স্মার্ট ফিগার’কেই মেধার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় অনেক প্রতিষ্ঠান। আমার ভালো কোনো চাকরি না হওয়ার পেছনেও হয়তো এই স্মার্টনেসের অভাবটা প্রধান দায়ী। বিয়ের সময়ও পাত্রের আউটলুকটা পাত্রী বা পাত্রীপক্ষের নিকট একটা বড় বিবেচ্য বিষয়! এসব বিষয় ভেবে মোটা হবার একটা প্রচেষ্টা সবসময় আমার মধ্যে কাজ করতো। কিন্তু মোটা হবার সুযোগ হতে না হতেই বিগত কয়েক বছর ধরে মোটা মানুষদের কিছু সাধারণ বিপদ আমাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে যেন বুঝিয়ে দিলো, চিকন থাকাটাই শরীরের জন্য বেশি কল্যাণকর, বেশি নিরাপদ। আমার মোটা হবার সব রকম প্রচেষ্টা ইদানিং চিকন থাকার প্রচেষ্টায় রূপান্তরিত হয়ে গেলো। চিকন থাকাটা আমার কাছে এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা অনেক আনন্দের। সেই আনন্দ মাটি হয়ে যায়, যদি বিপজ্জনক কোনো রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। রোগের সাথে যুদ্ধ করে করে জীবন কাটাতে গিয়ে জীবনটা একেবারেই অভিশপ্ত মনে হয়। মনের চাহিদামতো বা পছন্দের কোনো খাবার খাওয়া যায় না, চলাফেরায় অনেক সতর্ক থাকতে হয় সবসময়, চিকিৎসকের পরামর্শমতো চলা এবং ঔষধের উপর নির্ভরশীল হয়ে চলতে গিয়ে জীবনটাই বিষিয়ে ওঠে।
এরচেয়ে বরং বেশি বেশি খাওয়া, আরামে আরামে চলা আর মুটিয়ে যাওয়া থেকে নিজেকে সংযত রাখতে পারলে শরীরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটবে না। ‘দাঁত থাকতেই দাঁতের কদর করা উচিত’ -এরকম একটা মূল্যবান প্রবাদ আমরা অনেকেই জানি। ‘সুস্থ থাকতেই সুস্থতার যত্ন নেয়া উচিত’ -এটাই হতে পারে প্রবাদটির একটা বিশেষ অর্থ।
বিশেষ করে বয়স যখন ৩০ পেরিয়ে যাবে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স ৩০ হলেই যা বাড়িয়ে দেয়া উচিত বহুগুণ।
শরীরের যত্ন নেয়ার আলাদা কোনো বয়স না থাকলেও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স ৩০ হলেই সতর্ক হন। কেননা, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের নিজস্ব শক্তি কমতে থাকে। কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে।
অনেক দিন সুস্থ থাকতে ৩০ বছর বয়স থেকেই শরীরের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপের মতো শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি এড়াতে ৩০ বছর বয়স থেকেই জীবনযাপনে বদলে ফেলা উচিত।
৩০ বছর বয়স থেকেই প্রাত্যহিক জীবনে যেই বিষয়গুলো মেনে চলবেন:
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই ডায়েট করেন। নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়াও করেন। কয়েকদিন যাওয়ার পর দেখা যায় বিভিন্ন কারণে আর ডায়েট করে উঠতে পারছেন না। আবার সেই আগের নিয়মে ফিরে এসেছে ডায়েট ও খাওয়াদাওয়া। এমন করলে শরীরের ওপর প্রভাব পড়ে। অথচ ফিট থাকার প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
মাঝে মাঝে মনের চাহিদামতো খেতে পারবেন। যেই খাবারগুলো আপনার বেশি পছন্দের সেগুলোও মাঝে মাঝে খান। সপ্তাহে ২/৩ বেলা পেটভরে খেলে বা পছন্দের যেকোনো খাবার খেলে শারীরিক কোনো সমস্যা হবে না।
সুস্থতার যত্ন নেয়ার সবচেয়ে সেরা উপায় হচ্ছে নিয়মিত কায়িক শ্রম করা। কায়িক শ্রম বাদ দিতয়ে আপনি ফিট থাকার জন্য অন্য যেই চেষ্টাই করেন, তা বৃথা যাবে শুধু কায়িক শ্রমের অভাবে।
২৫তম পর্ব:
https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_46.html

0 Comments: