দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-৪১) : ধূমপানের সাথে ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার সঠিক পন্থা
ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে
দীর্ঘজীবন লাভের উপায়
ধূমপানের সাথে ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার সঠিক পন্থা
ক্যান্সারে আক্রান্ত ১০০ জন লোকের উপর সমীক্ষা চালানোর কথা আমি একটু আগে লিখেছি। কথাটি লেখার দু’একদিন পর এক দরকারে আমাকে একটু অনলাইনের তথ্য জগতে প্রবেশ করতে হলো। সেখানে গত জানুয়ারিতে বৃটেনে পরিচালিত ধূমপান-সম্পর্কিত একটি গবেষণার ফলাফল দেখে চমকে যাই। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে) কর্তৃক পরিচালিত গবেষণাটির ফলাফল ‘ÔOne cigarette a day increases heart disease and stroke risk’’ শিরোনামে ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখের BBC News -এ প্রকাশিত হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটির চুম্বকাংশ এখানে উল্লেখ করা হল।
‘‘Smokers need to quit cigarettes rather than cut back on them to significantly lower their risk of heart disease and stroke, a large BMJ study suggests.
People who smoked even one cigarette a day were still about 50% more likely to develop heart disease and 30% more likely to have a stroke than people who had never smoked, researchers said.
They said it showed there was no safe level of smoking for such diseases.
But an expert said people who cut down were more likely to stop. Cardiovascular disease, not cancer, is the greatest mortality risk for smoking, causing about 48% of smoking-related premature deaths.
While the percentage of adults in the UK who smoked had been falling, the proportion of people who smoked one to five cigarettes a day had been rising steadily, researchers said.
Their analysis of 141 studies, published in the BMJ, indicates a 20-a-day habit would cause seven heart attacks or strokes in a group of 100 middle-aged people. ...’’ [ http://www.bbc.com/news/health-42802191 ]
বিবিসি নিউজে ২৫ জানুয়ারির ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের দৈনিক ইত্তেফাক পরদিন ২৬ জানুয়ারি ‘ধূমপান কমিয়ে লাভ নেই, বৃটেনে নতুন গবেষণা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ধূমপানে ক্যান্সারের ঝুঁকি যে কম, এ গবেষণা তা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ দু’ভাবেই দেখিয়ে দিয়েছে। প্রথমে সরাসরি বলেছে, ‘ধূমপানের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ক্যান্সার নয়, বরং হৃদরোগ।’পরে ১০০ জন ধূমপায়ীর ওপর গবেষণা করে বলেছে, ‘তাদের সাত জনই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় (ক্যান্সারে নয়)।’
ধূমপানে যদি ক্যান্সার হতো, দিনে অন্তত ২০টি সিগারেট খান, এরকম ১০০ ধূমপায়ীর ওপর গবেষণায় তা অবশ্যই ধরা পড়তো। আসলে ধূমপানে ক্যান্সার হয় বলে যারা বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করেন, তাদের গবেষণা হয় উল্টো পথে। তারা কয়েকজন ক্যান্সার রোগীকে যখন দেখেন, এদের বেশিরভাগই ধূমপান করে, তখন আর কিছু না ভেবে মন্তব্য করেন, ধূমপানেই এদের ক্যান্সার হয়েছে। কিন্তু যারা ধূমপান করেন না, তাদের ক্ষেত্রে এসব গবেষক মনে করেন, বংশগত কারণে বা তেজস্ক্রিয়ার কারণে বা অজ্ঞাত কোনো কারণে তারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। একটা রোগের জন্য ভালোভাবে না যাচাই করে একেক জনের ক্ষেত্রে একেকটা কারণকে দায়ী করাটা রোগটির সঠিক কারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
ধূমপানের সাথে ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার সঠিক পন্থা হতে পারে এমন- ১. কোনো একটি ক্যান্সার হাসপাতালে গিয়ে যদি দেখা যায়, ক্যান্সারে আক্রান্ত ১০০ জন রোগীর সবাই ধূমপায়ী অথবা ২. যেসব গোষ্ঠি বা শ্রেণির মানুষ সাধারণত ধূমপান করেন না বা যাদের মধ্যে হাজারেও একজন ধূমপান করেন না, যেমন বাংলাদেশের নারীরা বা আধ্যাত্মিক ভাবাধারায় শিক্ষিত মানুষরা, যদি দেখা যায়, তারা কেউই কখনো ক্যান্সারে আক্রান্ত হন না, বরং অন্যরা, যারা ধূমপানের সাথে জড়িত, তারাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তাহলেই ধূমপানে ক্যান্সার হয় বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কিন্তু যদি দেখা যায়, ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অল্প কিছু লোক ধূমপায়ী বা যেসব শ্রেণির মানুষ ধূমপান করেন না, তারাও অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তাহলে ধূমপানের সাথে ক্যান্সারকে সম্পর্কিত করা হবে মারাত্মক ভুল। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী ধূমপায়ীও হতে পারে। কিন্তু এজন্য ধূমপানকে দায়ী করে বসাটা কি ঠিক?
ধূমপানকে দায়ী করা যেতো তখন, যখন ধূমপায়ী ছাড়া অন্য কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত না হতো। কথায় কথায় ক্যান্সারের কারণকে অজ্ঞাত বলে মাঝে মাঝে আবার ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করার জন্য ধূমপানকে ক্যান্সারের জন্য দোষারোপ করে আমরা ধূমপানের ক্ষতি এবং ক্যান্সারের প্রকৃত কারণ উভয় বিষয়ে নিজেদেরকেই বিভ্রান্তিতে ফেলে রাখছি।
বিএমজে’র গবেষণায় দৈনিক ২০টি সিগারেট খান, এমন ১০০ জন ধূমপায়ীর মধ্যে যে সাতজনকে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকে আক্রান্ত পাওয়া গেছে, সে সাতজন যে ধূমপানের কারণেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, তা কি কোনোভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে? গবেষণাটির ধারেকাছে না থেকেও আমি প্রবল বিশ্বাসের সাথে বলতে পারি, এ সাতজনের যারা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত, তাদের মধ্যে স্থূলতা, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রমহীনতা এবং শরীরে চর্বি-কোলেস্টেরলের আধিক্য- এ তিনটি বৈশিষ্ট্যের কোনো একটি বা একাধিকটি পাওয়া যাবে এবং এসব বৈশিষ্টের কারণেই আমি মনে করি, ধূমপানে এদের হার্ট অ্যাটাক হয়নি, হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এসব কারণে।
আর এ সাতজনের যারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, তারা কেন হয়েছেন, সে ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকাটাই শ্রেয় ছিল। কারণ ধূমপান করে না, এমন লোকেরাও অহরহ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় সারা বিশ্বেই। তাই ধূমপানেই যে এরা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে গেলে ভুলের সম্ভাবনা থেকে যায়।
৪২তম পর্ব:
https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_55.html

0 Comments: