Headlines
Loading...
দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-৪০) : ক্যান্সারের কোনো কারণ কি এখনো আবিষ্কৃত হয়েছে?

দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-৪০) : ক্যান্সারের কোনো কারণ কি এখনো আবিষ্কৃত হয়েছে?

ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে
দীর্ঘজীবন লাভের উপায়






ক্যান্সারের কোনো কারণ কি এখনো আবিষ্কৃত হয়েছে?


প্রশ্ন হচ্ছে, চিকিৎসা বিজ্ঞান যখন এখনও ক্যান্সারের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি এবং এ ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত যে, ক্যান্সারের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন ধূমপান বা তামাক সেবনকে ক্যান্সারের জন্য দোষারোপ করা কি ঠিক? ‘বাংলা ট্রিবিউন’ একটি অনলাইন পত্রিকায় ০৯ মার্চ ২০১৬ তারিখে প্রকাশিত একটি সংবাদ দেখলাম, যার শিরোনাম: ‘ধূমপানে ক্যান্সার: প্রমাণ ছাড়া মানতে নারাজ ভারতের সর্বোচ্চ আদালত’। সংবাদটিতে বলা হয়, ‘ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি প্রশ্ন দেশটির অনেক মানুষকে অবাক করেছে। মঙ্গলবার একটি সিগারেটের রঙ্গিন প্যাকেট নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে অনাকর্ষণীয় করার এক আবেদনের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীর সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জানতে চান, ধূমপানের কারণে যে ক্যান্সার হয়, এর পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে কিনা। প্রধান বিচারপতি টিএস ঠাকুর ও ইউ ইউ ললিত কাউন্সেল ঐশ্বওয়ারিয়া ভাটির কাছে জানতে চান, এটা কি সম্ভব যে, ধূমপানের কারণে ক্যান্সার হয়? ধূমপানে আসক্ত এলাহাবাদের এক অ্যাডভোকেট আদালতে এ আবেদন করেন। বর্তমানে তিনি জিহ্বা ও মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের বিচারপতিরা বলেন, এটা কিভাবে প্রমাণ করবেন? অনেক অধূমপায়ী আছেন যাদের ক্যান্সার হয়েছে। এছাড়া অনেক ধূমপায়ী আছেন যারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুস্থভাবে বেঁচেছিলেন।...’ [http://www.banglatribune.com/foreign/news/85161]

বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মানুষ কমবেশ ধূমপান বা তামাক সেবন করে। অল্প কিছু দেশ আছে, যেখানে খুব কম মানুষ ধূমপান করে। বিশ্বের সব দেশে যদি শুধু ধূমপায়ী ও তামাক সেবনকারীরাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হতো এবং অধূমপায়ী ও তামাক সেবনমুক্ত মানুষগুলো ক্যান্সারে আক্রান্ত না হতো, তাহলে নির্দ্বিধায় ধূমপান ও তামাক সেবনকে ক্যান্সারের জন্য একতরফাভাবে দায়ী করা যেতো। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত কোনো লোককে যখন দেখা যায়, সে ধূমপায়ী বা তামাকসেবী, তখন আর কিছু চিন্তা না করে ধূমপানকে দোষারোপ করাটা বিশ্বব্যাপী বেশ সাধারণ একটা প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এসব রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক যদি দেখেন, এরা ধূমপায়ী বা তামাকসেবী, তখন এদেরকে ধূমপান বা তামাক সেবন পুরোপুরি ছেড়ে দিতে বলেন। অথচ একই রোগে আক্রান্ত যারা ধূমপানে অভ্যস্ত নয়, তাদেরকে ধূমপান নয়, অন্য বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেন। অর্থাৎ রোগ একই, কারণ একেক জনের ক্ষেত্রে একেকটা! যদি কেউ ধূমপান করে, তাহলে তার রোগাক্রান্ত হবার জন্য আর কিছু নয়, ধূমপানকেই দায়ী করা হয় চোখ বন্ধ করে, আর ধূমপান না করলে অন্যটা দায়ী!

যে জনগোষ্ঠীর মানুষ ধূমপান করে না, তারা যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত না হতো, তাহলে ধূমপানকে ক্যান্সারের কারণ ভাবতে বেশ একটা চিন্তা করতে হতো না। ধূমপান ছাড়াও অন্য অনেক অজ্ঞাত কারণে অসংখ্য মানুষ বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। ধূমপানে আসক্ত এলাহাবাদের যে অ্যাডভোকেট ভারতের আদালতে ধূমপান সংক্রান্ত একটি বিষয়ে আবেদন করেছিলেন, তিনি ধূমপানের কারণেই যে জিহ্বা ও মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? টুথপেস্টের কারণেও অনেকের জিহ্বা ও মুখের ক্ষতি হতে পারে, কথাটা চিকিৎসা বিজ্ঞানই বলে। তাছাড়া ক্যান্সার শরীরের যে কোনো জায়গায় সৃষ্টি হতে পারে। ধূমপান না করলেও ক্যান্সার হয়তো তাকে ঠিকই আক্রমণ করতো।

নির্দিষ্ট করে ক্যান্সারের কোনো কারণ এখনও কেউ খুঁজে পায়নি। American Cancer Society’র অনলাইনে What is Cancer? শিরোনামের আরেকটি নিবন্ধের Why did this happen to me? উপশিরোনামে বলা হয়েছে, ‘‘People with cancer often ask, “What did I do wrong?” or “Why me?” Doctors don’t know for sure what causes cancer. When doctors can’t give a cause, people may come up with their own ideas about why it happened.

Some people think they’re being punished for something they did or didn’t do in the past. Most people wonder if they did something to cause the cancer.
If you’re having these feelings, you’re not alone. Thoughts and beliefs like this are common for people with cancer. You need to know that cancer is not a punishment for your past actions. Try to not blame yourself or focus on looking for ways you might have prevented cancer. Cancer is not your fault, and there’s almost never a way to find out what caused it. Instead, focus on taking good care of yourself now.’’ [https://www.cancer.org/cancer/cancer-basics/what-is-cancer.html]

এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘‘Doctors don’t know for sure what causes cancer. When doctors can’t give a cause, people may come up with their own ideas about why it happened.’’ অবাক লাগে, তবু মানুষ এটাসেটাকে ক্যান্সারের কারণ বলে প্রচার করে কিভাবে!

৪১তম পর্ব:
https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_94.html

Occupation: Teaching, Hobbies: Writing

0 Comments: