দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-১৯) : চিকন থাকা সুস্থ জীবনের পক্ষে বেশ সহায়ক
ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে
অধ্যায়-১৮
মোটা হতে নয়, চিকন থাকতে/হতে চেষ্টা করুন!
চিকন থাকা সুস্থ জীবনের পক্ষে বেশ সহায়ক
জাপানের মানুষের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সবার ধারণা আছে? জাপানীদের অধিকাংশই স্লিম ফিগারের। আমার মনে হয় এদের গড় আয়ু বেশি শুধু এ কারণেই। ব্যাপকহারে কেন এরা ছিপছিপে শরীরের হয়, তা কি আমরা কেউ জানি? খোঁজ নিলে দেখবেন, এরা বেশ পরিশ্রমী। অন্য দেশ থেকে জনশক্তি ভাড়া করার পরিবর্তে এরা নিজেদের কাজ নিজেরা করতেই পছন্দ করে। বেশ পরিশ্রমী বলেই এদের শরীরে মেদ জমে না, ওবেসিটি বা স্থূলতা এদেরকে গ্রাস করতে পারে না, অযাচিত ভুঁড়ির বোঝাও এরা বহন করে না। আর যেহেতু উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের জন্য অতিরিক্ত মেদ-ভুঁড়ি, চর্বি-কোলেস্টেরল, স্থূলতা, পরিশ্রমহীনতা এসবই দায়ী, তাই যাদের মধ্যে এসব নেই, তারা দীর্ঘজীবি হবে না কেন?
বিগত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ দৈনিক যুগান্তরে একটা সংবাদ দেখে অবাক হয়ে গেলাম। সংবাদটির শিরোনাম হলো- ‘জাপানে ৬৮ হাজার মানুষ শতবর্ষী!’ মাত্র ১২ কোটি ৭১ লক্ষ জনসংখ্যার দেশে শতবর্ষী মানুষের এ সংখ্যা দেখে কেউ অবাক না হয়ে পারবেন না। শুধু তা-ই নয়, সংবাদটিতে আরও বলা হয়, ‘(জাপান) সরকার ধারণা করছে, আগামী মার্চে আরও ৩২ হাজার মানুষ শতবর্ষীর সংখ্যায় যোগ হবে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।’
সংবাদটি দেখার পর থেকে মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতো, জাপানে মানুষের এই দীর্ঘায়ু লাভের পেছনে রহস্য কী? প্রশ্নটি অনেক দিন মনের মধ্যে ঘুরপাক খেল। শেষে দৈনিক যুগান্তরই আমাকে প্রশ্নটির উত্তর পেতে সহায়তা করল। ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ সংখ্যা দৈনিক যুগান্তরের ‘একদিন প্রতিদিন’ বিভাগে বিভিন্ন দেশে প্রচলিত কিছু অদ্ভুত আইন নিয়ে একটি লেখা ছাপা হয়। সেখানে জাপান সম্পর্কে ‘ওজন বাড়াটা অপরাধ’ শিরোনামে একটি চমৎকার তথ্য উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ‘মেটাবো ল’ অনুযায়ী জাপানে ওজন বৃদ্ধিতে বিধিনিষেধ আছে। এখানে ৪০ বছর পার হওয়া নারীদের কোমর ৩২ থেকে ৩৬ ইঞ্চির মধ্যে থাকতে হবে। এছাড়া এসব নারী ৬০ কেজির ওপরে ওজন বাড়াতে পারবে না।’
মেটাবো ল’ সম্পর্কে পরে গুগলে খুঁজে অনেক তথ্য পেলাম। যেমন: মেটাবো ল’ লঙ্ঘন কোনো ফৌজদারী অপরাধ নয়। ২০০৮ সালে জাপানে আইনটি পাশ করা হয়। ÔIs It Illegal to Be Fat in Japan?Õ শিরোনামে একটি লেখায় মেটাবো ল’ সম্পর্কে বলা হয়, ÔIn January 2008, Japan passed the “Metabo Law” in an effort to curb obesity in that country. While the law does require men and women between the ages of 45 and 74 to have their waistlines examined once a year and potentially seek medical treatment if their measurements fall outside established ranges, it did not establish obesity as a criminal offense.
The Metabo Law was named after metabolic syndrome, a group of conditions, including high blood pressure and excess body fat, that can increase the risk of serious medical ailments...Õ [https://www.snopes.com/fact-check/the-metabo-law]
আমার প্রশ্নটির উত্তর তো তাহলে হয়েই গেলো। যে দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করে মানুষের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, সে দেশে ওজন বৃদ্ধিজনিত রোগগুলো মানুষের ক্ষতি করার সুযোগই পেতে পারে না। বর্তমান পৃথিবীতে ওজন বৃদ্ধিজনিত রোগগুলোতেই মানুষ মারা যাবার হার বেশি। তাই হালকা থাকার সুবাদে এরকম রোগগুলো থেকে যখন জাপানের মানুষ নিরাপদেই থাকে, তারা তো দীর্ঘজীবি হবেই।
অতএব হালকা থাকুন। যাদের শরীর আগে থেকেই হালকা আছে, তারা তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। মোটা হবার আকাক্সক্ষা থেকে থাকলে চিরতরে তা ঝেড়ে ফেলুন। মানুষের কাছে আপনাকে দেখতে স্মার্ট লাগবে, এমন আত্মবিধ্বংসী মানসিকতা পরিহার করে সুস্থ-সবল, সুখী জীবন যাপনের প্রতি যতœবান হোন। জানা আছে নিশ্চয়ই, ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। সকল সুখের মূল না-ও হতে পারে, তবে সুখী হতে হলে স্বাস্থ্য অবশ্যই ভালো হতে হবে। আমরা অনেকে মনে করি, স্বাস্থ্যবান মানুষ দ্বারা মোটা মানুষ বুঝায়। কিন্তু না, স্বাস্থ্যবান মানুষ চিকনও হতে পারে, মোটাও হতে পারে। স্বাস্থ্যবান মানুষ মানে এমন মানুষ, যে শারীরিক কোনো রোগে আক্রান্ত নয়। চিকন মানুষকে দেখতে রোগা রোগা মনে হলেও চিকন মানুষের চেয়ে মোটা মানুষকে রোগ আক্রমণ করে বেশি।
আমাদের পার্শ্ববর্তী এক বিদ্যালয়ে টুলু রানী নামে একজন মহিলা শিক্ষক ছিলেন। খুব ভালো শিক্ষক। অবসরে চলে গেছেন তিন-চার বছর আগে। এখনও মাঝে মাঝে দেখা হয়, কথা হয়। খুব ভালো আছে তাঁর শারীরিক অবস্থা। তাঁর সাথে পরিচয়ের পর থেকে দেখছি, তিনি বেশ চিকন শরীরের মানুষ। অবসরের পর এখনও আগের মতোই চিকন আছেন। কারণ কায়িক শ্রমের কাজকে কখনো তিনি অবহেলা করেন না। এরকম আরো অনেকেই আছেন আমার পরিচিতজনদের মধ্যে, যারা চিকন এবং সুস্থ। তাই চিকন ও মোটা মানুষের সাথে স্বাস্থ্যবান হওয়া-না হওয়ার সম্পর্ক সম্পর্কে আমাদের ধারণা শোধরে নেয়া প্রয়োজন।
আর যারা চেষ্টা করে হোক বা বিনা চেষ্টায়, ইতোমধ্যে মুটিয়ে গেছেন, কিন্তু মোটা হবার কারণে যে রোগগুলো হয়, এখনো সেগুলো স্পর্শ করেনি, তারা যতো দ্রুত সম্ভব হালকা হয়ে যাবার চেষ্টা করুন। খুব সম্ভবতঃ রোগগুলো আপনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে, শীঘ্রই আপনাকে আক্রমণ করে বসবে। রোগগুলোর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য যত দ্রুত সম্ভব যেভাবে সম্ভব মেদ-ভুঁড়ি কমিয়ে ফেলুন, নয়তো পরিশ্রমের কাজ বা ব্যায়ামে নিয়মিত হোন। মনে রাখবেন, একজন লোক মোটা হবার পাঁচ থেকে পনেরো বছরের মধ্যে তাকে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এরকম কোনো এক বা একাধিক রোগ আক্রমণ করতে পারে, যদি সে নিয়মিত পরিশ্রমের কাজ বা ব্যায়াম না করে। তবে পঞ্চাশ-ষাট বছরের উপরে যাদের বয়স, তারা হঠাৎ মোটা হয়ে যাবার পর আরও কম সময়ে রোগগুলোতে আক্রান্ত হতে পারেন, যদি কম কম না খান, নিয়মিত পরিশ্রম/ব্যায়াম অথবা অন্তত হাঁটাহাঁটি না করেন।
তাই বিধ্বংসী রোগগুলো থেকে নিরাপদ থাকতে চাইলে হালকা থাকার বা হালকা হবার চেষ্টা করুন। হালকা-ছিমছাম শরীর নিয়ে আনস্মার্ট হয়েও সুস্থতার সাথে সত্তর বছর বেঁচে থাকা অবশ্যই স্মার্টনেসের জন্য মোটা হয়ে স্থূলতাজনিত কারণে নানান রোগে ধুঁকে ধুঁকে ষাট বছর বেঁচে থাকার চেয়ে হাজার গুণে ভালো। বিষয়টা অবশ্যই উপলব্ধির বিষয়। নিয়মিত কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম করে নিজকে স্লিম রাখুন, সুস্থ-সবল জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার আশা করতে পারবেন।
পৃথিবীর অনুন্নত দেশগুলোতেই শুধু মানুষ মোটা হওয়ার কারণে এই রোগগুলোতে আক্রান্ত হচ্ছে না। উন্নত দেশগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। জার্মানীর জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলের (বাংলা) ওয়েবসাইটে ২৬ নভেম্বর ২০১৩ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ‘ইউরোপবাসীর ওজন বাড়ছে, প্রয়োজন সতর্কতা’ শিরোনামে, যা লিখেছেন নুরুননাহার সাত্তার। সেখানে বলা হয়, ‘ইউরোপে অতিরিক্ত ওজনের মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর এ সব মানুষের মধ্যে নানা রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশ কিছুদিন আগেই এই বিষয়ে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছে।
অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বিবেচনায় এক নম্বরে রয়েছে হাঙ্গেরি, তারপর যথাক্রমে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, মাল্টা এবং লুক্সেমবুর্গ। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এদের অবস্থা সবচেয়ে সঙ্গিন।
তবে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, তুলনামূলকভাবে জার্মানির অবস্থা তেমন একটা খারাপ নয়। জার্মানিতে মানুষের বয়সের সাথে সাথে ওজনও বাড়ে। ইদানীং অবশ্য কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত ওজনের সংখ্যা প্রায় চার মিলিয়ন। জার্মানিতে ১৯৯০ সালের পর থেকে ১৭ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত মোটা হওয়ার সংখ্যা বেড়ে শতকরা ৫০ হয়েছে। অন্যদিকে, অ্যামেরিকা এবং ব্রিটেনে অতিরিক্ত মোটা কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা আগের মতোই রয়েছে, অর্থাৎ শতকরা ৬০ ভাগের ওপরে।’
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ‘মোটা রোগীরা যখন ডাক্তারের কাছে যান, ডাক্তাররা প্রথমেই ওজন কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অতিরিক্ত ওজনের মানুষদেরই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস হবার আশঙ্কা থাকে।’ [https://www.dw.com/bn/a-17253045]
ডয়চে ভেলের (বাংলা) ওয়েবসাইটে ২৯ এপ্রিল ২০১৬ তারিখ প্রকাশিত ‘পাতলা মানুষ বেশি দিন বাঁচে’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে করা গবেষণায় বরিয়ে এসেছে, কর্মঠ বা সক্রিয়, মোটা মানুষের চেয়ে অলস, পাতলা মানুষই নাকি বেশি দিন বেঁচে থাকে। গবেষণা বলছে, শারীরিক ফিটনেসের চেয়েও ওজন কম থাকা বেশি জরুরি এবং সে কারণেই তারা নাকি বেশি দিন বাঁচে। ৩০ বছর ধরে লাখ মানুষকে নিয়ে করা গবেষণাটি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ এপিডেমিওলজি-তে প্রকাশিত হয়েছে।’ [https://www.dw.com/overlay/media/bn/19224274/40449697]
সুতরাং মোটা হবার চেষ্টা না করে চিকন থাকার ওপরই সন্তুষ্ট হোন, যারা এখনও চিকন আছেন। আর যারা ইতোমধ্যে মুটিয়ে গেছেন, বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে চিকন হয়ে যাবার চেষ্টা করুন। নয়তো বেশি দিন বেঁচে থাকার আশা করতে পারবেন না পৃথিবীতে। তবে চিকন মানুষ হয়েও কেউ যদি শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে থাকে, তাকেও রোগগুলো আক্রমণ করতে পারে। তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য শারীরিক পরিশ্রমের বিকল্প নেই।
ফাস্টফুড খাওয়ার সাথে মোটা হবার সম্পর্ক
একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। অনেক অনেক গবেষণা প্রতিবেদনে ফাস্টফুড খাওয়াকে মোটা হওয়ার জন্য দায়ী করতে দেখা যায়। বাংলাদেশ প্রতিদিনে ১৯ জুন ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত ‘যেসব কারণে শহরের মেয়েরা বেশি মোটা হয়!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে শহরের মেয়েদের মোটা হবার বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়। কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো, ‘শহরের মেয়েরা ফাস্টফুড জাতীয় খাবার বেশি খায়। আর এটি মোটা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।’
শহরের মেয়ে হোক আর গ্রামের মেয়ে, মোটা হবার জন্য ফাস্টফুড বেশি বা কম খাওয়া দায়ী নয়। দায়ী হচ্ছে বেশি খাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে থাকা। মূলত মানুষ যা-ই খায়, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমে জড়িত থাকে, মানুষ মোটা হয় না। ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড না খেলেও মানুষ অন্য খাবার যদি বেশি বেশি খায় এবং শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে থাকে, মানুষ মোটা হওয়া থেকে রক্ষা পায় না। তাই মোটা হওয়া এড়াতে হলে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে এবং পরিমিত আহার করতে হবে। পরিমিত আহার না করেও মোটা হওয়া এড়ানো সম্ভব শুধু পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে। এজন্য বাংলাদেশ প্রতিদিনের এই প্রতিবেদনে শহরের মেয়েদের মোটা হবার আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জার্নাল অব নার্সিং অ্যান্ড হেলথের তথ্যমতে, তারা কায়িক পরিশ্রম কম করে। এতে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বাড়ে।’
বাস্তবেই দেখা যায়, যারা কায়িক শ্রমের সাথে জড়িত, তারা বেশি বেশি খেলেও মোটা হয়ে যায় না। বিষয়টা আরো পরিষ্কারভাবে বুঝার জন্য প্রথম আলোয় ৩০ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত ‘মানুষ কেন বেশি মোটা হয়?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন দেখুন। সেখানে বলা হয়, ‘বেশি খেলে মানুষ বেশি মোটা হয়- কথাটা ঠিক নয়। বেশি বেশি খাবার আর কম দৌড়াদৌড়ি বা ব্যায়াম করাটাই বেশি মোটা হওয়ার একমাত্র কারণ বলে মনে করেন অনেকে। তবে অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা বলছেন, মোটা হওয়ার পেছনে আরও কারণ আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে চাকরি।
গবেষকেরা বলছেন, বসে বসে কাজ করার জীবনধারায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে এবং কর্মক্ষেত্রে নানাবিধ চাপের মুখে যখন দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কর্মীকে কাজ করে যেতে হয়, তখন তার ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, বিশ্বের ১৯০ কোটিরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওজন বেশি। এদের মধ্যে ৬০ কোটি মানুষ স্থূলকায় হয়ে গেছে।
‘সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এ সংক্রান্ত গবেষণাবিষয়ক নিবন্ধটি।’ [https://www.prothomalo.com/technology/article/669208]
সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই, ফাস্টফুড বা অন্য খাবার বেশি বেশি খেলেই শুধু মানুষ মোটা হয় না, বরং বেশি খাওয়ার পাশাপাশি বসে বসে কাজ করলে তথা শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে থাকলেই মানুষ মোটা হয়। আর মোটা হলে মানুষ আক্রান্ত হয় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগসমূহে। ‘যেসব কারণে শহরের মেয়েরা বেশি মোটা হয়!’ শিরোনামের প্রতিবেদনটির শুরুতেই বলা হয়, ‘বাড়তি ওজনের কারণে বাড়ছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের অসুখ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মতো বড় বড় ব্যাধিও। অকালে মৃত্যুবরণ করছেন অনেকে।’ তাই মোটা হতে নয়, বরং চিকন থাকতেই/হতে চেষ্টা করুন, দীর্ঘজীবন লাভের সম্ভাবনা বাড়বে।
২০তম পর্ব:
https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_90.html

0 Comments: