Headlines
Loading...
দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-২২) : নিজ ঘরে কিভাবে ব্যায়াম করবেন

দীর্ঘজীবন লাভের উপায় (পর্ব-২২) : নিজ ঘরে কিভাবে ব্যায়াম করবেন

ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রকৃত কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় জানার মাধ্যমে


দীর্ঘজীবন লাভের উপায়




অধ্যায়-২১
ঘরেও করতে পারেন জিমের ব্যায়াম

ব্যায়ামের জন্য অনেকে নিয়মিত জিমে গিয়ে থাকেন। কিন্তু ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার সুযোগ সবার হয় না, অনেকে আবার সময় পান, কিন্তু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করতে পারেন না। এমন সমস্যা যাদের, তারা জিমে ব্যবহৃত হয়, এমন ব্যায়ামের মেশিন কিনে বাসায় থেকেই জিমের সুবিধা পেতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ না হলেও মিনি জিম গড়ে তুলতে পারেন বাসায়। এতে সুবিধামতো যে কোনো সময় স্বাধীনভাবে ব্যায়াম করা যায়। বাসায় ব্যায়ামের মেশিন ব্যবহারের আরেকটি সুবিধা হলো পরিবারের সবাই বাসায় বসেই ব্যায়ামের সুযোগ পায়। জিমের মেশিন হিসেবে ইলেক্ট্রিক কোনো অটোমেটিক মেশিন না কিনে হাতে বা পায়ে চালিত মেশিন কেনাই ভালো। কারণ অটোমেটিক মেশিনে বিপদের ঝুঁকিও থাকে। হিতে বিপরীত হতে পারে।



অধ্যায়-২২
বিনা খরচে ব্যায়াম

ব্যায়ামের জন্য জিমে যেতে হবে বা জিমের মেশিন কিনে বাসায় এনে মেশিনেই ব্যায়াম করতে হবে, এককথায় ব্যায়ামের জন্য পয়সা খরচ করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। অসংখ্য ব্যায়াম আছে, যেগুলোতে কোনো খরচ নেই। আমরা সেগুলো করেই ব্যায়ামের প্রয়োজন মেটাতে পারি।

বিনা খরচে ব্যায়ামের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হচ্ছে হাঁটা। বাইরে যতক্ষণ থাকতে হয়, এদিক সেদিক যাবার জন্য হাতে সময় থাকলে এবং সহনীয় মাপের দূরত্ব হলে হেঁটে হেঁটেই যাতায়াত করুন। এরকম সুযোগ না থাকলে প্রতিদিন সকালে কিবা রাতে বা সুবিধামতো যে কোনো সময় হাঁটতে বের হয়ে যান। প্রতিদিন ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা হাঁটাহাঁটির পেছনে খরচ করুন।

অনেক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দড়িলাফ (স্কিপিং) দেখে আমরা খুব কমই ভাবি, এটা শুধু একটা ক্রীড়া-ইভেন্টই নয়, একটা উৎকৃষ্ট ব্যায়ামও। বন্ধু, প্রতিবেশী বা পরিবারের কাউকে সঙ্গী করে প্রতিযোগিতামূলকভাবে সকালে বা বিকালে দড়িলাফ দেয়া যেতে পারে বাড়ির আঙ্গিনায়, পার্কে বা সুবিধামতো কোনো জায়গায়। ব্যায়ামও হবে, বিনোদনও হবে। লজ্জা বা প্রেস্টিজ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে হবে না। দড়িলাফের একটা বাড়তি সুবিধা হচ্ছে, বাড়িতে থেকে যদি নিয়মিত দড়িলাফ দেয়া যায়, তাহলে হাঁটা বা জগিংয়ের জন্য বাড়ির বাইরে ভিন্ন পরিবেশে যাবার আর দরকার হয় না। দড়িলাফ সংখ্যা হিসেবে বা সময় হিসেবে দেয়া যেতে পারে।

লাঠিখেলাও একটা ব্যায়াম। এক-দু’ইঞ্চি ব্যাসের ছয়-সাত ফুট লম্বা লাঠি মাঝখানে বা এক মাথায় ধরে শরীরের পাশে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ব্যায়াম করা যায়। কুংফু বা কারাতে চর্চা করাও উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। সামরিক বাহিনীতে যেভাবে দু’পা উঠানামা করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করা হয়, বাসায় থেকেও যে কেউ সেরকম ব্যায়াম করতে পারেন। অনেক ঘাম ঝরবে। এটাকে স্পট জগিং বা স্ট্যান্ড জগিং বলা হয়।

বহুতল বিল্ডিংয়ের পাঁচ-ছয় তলার মধ্যে যাদের বাসা বা অফিস, তারা লিফট ব্যবহার না করে সবসময় সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা করতে পারেন। কাজের ছলেই প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম হয়ে যাবে। যাদের কর্মস্থল বাসা থেকে তিন-চার মাইল দূরত্বের মধ্যে, তারা বাস-ট্রেন, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্যাক্সি এসব ব্যবহার না করে সাইকেলে যাতায়াত করতে পারেন নিয়মিত, পথে পথেই রোজ রোজ ব্যায়ামের কাজটা সেরে যাবে। আপনার যেসব সহকর্মী প্রেস্টিজ পাংচার হবার ভয়ে আরামের যানবাহনে যাতায়াত করে, যখন দেখবেন তাদের শরীরে রোগ দেখা দিয়েছে, তখন নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে নিজেকে অবশ্যই ধন্য মনে হবে। আবার কর্মস্থল যদি এক-দেড় মাইলের মধ্যে হয়, তাহলে হেঁটে হেঁটে যেতে পারলেই ভালো। পয়সা সাশ্রয়ের জন্য নয়, জীবন রক্ষার জন্য, অল্প বয়সে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার আশা শক্ত করার জন্য। বাজার করে বাজারের ব্যাগটি যদি বেশ ভারী না হয়, হাতে বহন করা সম্ভব হয়, তখন তা হাতে নিয়েই হেঁটে হেঁটে বাসায় চলে আসুন বা সাইকেলে করে নিয়মিত বাজারে যাতায়াত করুন।
গ্রামে যারা থাকেন, যদি ফসলের জমি থাকে, অবসর সময়ে নিজ হাতে শাক-সবজি-ফসল চাষ করুন, পরিচর্যা করুন। কাজের লোক নেয়ার প্রয়োজন হলে তার সাথে নিজেও কাজ করুন। কোদাল দিয়ে জমিতে কাজ করতে গিয়ে যে পরিশ্রম হয়, প্রতিদিন যদি অন্তত একঘন্টা কেউ পরিশ্রম করে, তার আর কোনো ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই।

প্রাত্যহিক জীবনে আমরা এমন অনেক কাজও করে থাকি, যেগুলো কেবল আনন্দ লাভের জন্য। দেখা যায় এরকম অনেক কাজ আছে, যেগুলোতে বেশ পরিশ্রমও হয়, প্রচুর ঘামও ঝরে শরীর থেকে। আমরা এ কাজগুলো আর শুধু আনন্দ লাভের উদ্দেশ্যে না করে দৈনন্দিন ব্যায়ামের অংশ হিসেবেও করতে পারি। আনন্দও পাওয়া যাবে, শরীর সুস্থ রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাক এসব রোগ থেকে শরীরকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে এমন কাজগুলো অবশ্যই সহায়ক হবে।

যাহোক, জিমে না গিয়ে বা জিমের মেশিন না কিনেও এভাবে খরচ ছাড়াই বিভিন্ন উপায়ে ব্যায়ামের অভ্যেস গড়ে তোলা যায়। এতে শরীরে চর্বি-কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাবে না। চর্বি-কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে যে রোগগুলো সৃষ্টি হয়, সেগুলো থেকেও নিরাপদ থাকা যাবে।

২৩তম পর্ব: 
https://waytogainlonglife.blogspot.com/2022/09/blog-post_93.html

Occupation: Teaching, Hobbies: Writing

0 Comments: